অজানা আতংক (দ্বিতীয় পর্ব)

0
সাঈদ মোঃ তানজিদ||

দ্বিতীয় পর্ব:


বাড়ির পেছনের দিকে ঝোপঝাড়ে ভরা। দুপাশে বিশাল বাগান। সারি সারি দেশী বিদেশী ফুলে ছেয়ে আছে। বিভিন্ন ধাচের ফুলের সুগন্ধে আলাদাএকটা আবহ তৈরী হয়েছে চারপাশে। বড় সদর দরজায় টোকা দিল আবির। রাত তখন প্রায় ১১ টা বেজে কুড়ি মিনিট হবে। বেশ কয়বার টোকাদেবার পর কেউ না খুলায় আবীর ভাবল ঘুমে হয়তো সবাই। এখন আসাটাই ঠিক হয় নি তার। বরং চলেই যাক সে। ঠিক সেই সময় খুলে গেলবিরাট দরজাটা। ফারিহাই খুলেছে। এত রাতেও সেজে গুজে কেন বসে আছে ঠিক বুঝে ঊঠল না আবির। ফারিহা একটু হেসে বলল, “তুমিআসবে আমার কেন যেন মনে হয়েছিল। ভেতরে এস। বাবা মা আজ একটু শহরের বাইরে গেছে। আমি একাই আছি।” মস্ত বড় সিটিং হলেসোফায় বসল আবীর। ঠিক পাশেই বসল ফারিহা।

আবীরের বিশ্বাসই হচ্ছে না যেন এই ফারিহাই আজ দুপুরে ভয়ে তটস্থ ছিল। চোখের মধ্যে নিষ্পাপ সেই চাহনীটা সে দেখতে পাচ্ছে না। হঠাতকরেই কেন যেন আবীরের গায়ে কাটা দিয়ে উঠল। মনে হতে লাগল আজকে আসা ঠিক হয় নি। কেনই বা আসল সে? “তুমি বস, আমি নাস্তাকরে নিয়ে আসি” বলে ফারিহা উঠে চলে গেল কিচেনের দিকে। সে যাই হোক না আসলে ফারিহার এই সৌন্দর্যটা দেখা হত না। ভাবতেই মনভালো হয়ে গেল আবীরের। পরক্ষনেই দ্বিধায় গ্রাস করল আবীরের মনকে। আজ হঠাত করেই ফারিহা তাকে তুমি করে বলছে অথচ এতদিনথেকে আপনি বলেই ডেকেছে। আবীর সরাসরি আপনি না বলার কথা বলেছিল। শুনেনি ফারিহা, তবে আজ? মস্তিষ্কে দ্রুত চিন্তা ভাবনা চলছেআবীরের।

আচ্ছা, এখনো আসছে না কেন ফারিহা? মিনিট ২৫ তো পার হয়েই গেল। এক পা দু পা করে আগাতে লাগল আবীর। একি! কেউ নেই তোকিচেনে! শিরদাড়া বেয়ে শীতল স্রোত বয়ে গেল আবীরের। এত ভয় পাচ্ছে কেন আজ সে? না পাবারও তো কোন কারণ নেই। কি ঘটছে আজএসব অর সাথে? কিচেন থেকে বের হয়ে প্রতিটা রোম খুজতে লাগল আবীর। দোতলার যে ঘরে সে আলো দেখেছিল নিচে থেকে সে ঘরেইআসল আবীর। দরজা খুলতেই বিকট একটা গন্ধ তার নাকে এল। মনে হল বমি বুঝি এখনই হয়ে যাবে। তবুও সামনে এগিয়ে গেলো সে। বিছানাবরাবর যখন চোখ গেল আবীরের তখন আর কোন ভাবেই নিজেকে শান্ত করতে পারল না আবীর। কোন মানুষই পারবে না এসব দেখার পর।একটা সদ্যমৃত দেহ পড়ে আছে বিছানায়। খুব বেশি আগে নয় অনেকখানি খাওয়া হয়ে গেছে। হাড়ের ফাক গলে পায়ের কিছু মাংস ঝুলে আছে।বুকের ভেতরের ফুস্ফুস নেই, হৃদয়টাও নেই, বড় বড় নিষ্প্রাণ চোখগুলো শুধু চেয়ে আছে। হ্যা আবীরের দিকেই! জ্যান্ত নাকি? নাহ এ কি করেহয়।

কিন্তু এসবের ব্যাখ্যা কি? যাই ব্যাখ্যা হোক না কেন সে এমন একটা যায়গায় আটকা পড়েছে যে বাচার পথ নেই বললেই চলে। এমন সময়করিডোর ধরে ফারিহার ডাক শোনা গেল। ”আবীর, এই আবীর, নাস্তা রেডি তো। কোথায় গেলে তুমি? চলে এস বলছি!”

চলবে………….

Comments

comments