অজানা আতংক (পর্ব: ৩)

0
সাঈদ মোঃ তানজিদ||

পর্ব ৩: 


আবীরের সমস্থ গায়ে কাপুনি দিয়ে ঘাম ঝরতে লাগল। এ কি সত্যি ফারিহা? নাকি……. নাহ! আর ভাবতে পারছে না সে। এদিকে পদশব্দ এগিয়ে আসছে করিডোরে। সিদ্ধান্ত নিল বেরিয়ে পড়বে। সুযোগ বুঝে পালানোর চেষ্টা… যা আছে কপালে।

আস্তে করে দরজা খুলে বেরিয়ে আসল করিডোরে। এখন আর ফারিহার আওয়াজ শোনা যাচ্ছে না। বাম দিকে ঘুরতেই দেখল মাত্র ৫/৬ ইঞ্চি দূরে ফারিহা দাঁড়িয়ে। হাত বুকে ভাজ করা। কড়া চোখে তাকিয়ে আছে তার দিকে। আবীর এই আকস্মিকতায় হচকচিয়ে গেল। আমতা আমতা করে বলল, “তোমাকেই খুজছিলাম। কোথায় ছিলে তুমি?” ফারিহা ধীরে ধীরে আরো কাছে চলে আসল। কেমন যেন উদ্ভট লাগছে আবীরের। ফারিহা যেন শুকছে কিছু ওর মুখের কাছে। তারপর কানের কাছে মুখ এনে ফিসফিস করে বলল, “আস আমার সাথে, তোমাকে কিছু দেখাবো।” বলেই ঘুরে হাটা ধরল ফারিহা। ক্ষিপ্র গতিতে হাটছে সে। আবীর ও কিছু ভাবার সময় পেল না। পিছু নিল। করিডোর বেয়ে সিড়ি পার হয়ে নিচে নেমে আসল। বার বার পিছিয়ে পড়ছে আবীর। খুব জোরে হাটছে ফারিহা। ডাইনিং রোম পেরিয়ে শেষ মাথায় চলে আসল তারা। এমন সময় চলে গেল বিদ্যুৎ। নিকশ কালো অন্ধকারে ছেয়ে গেল পুরো ঘর। আবীরের গলা শুকিয়ে গেল। আবীর কাপা কাপা গলায় ডাক দিল, “ফারিহা, কোথায় তুমি?” কোন সাড়া নেই।

আজ বুঝি অমাবশ্যার রাত, কাচের জানালা ভেদ করেও এক ফোটা আলো আসছে না। কোথায় গেল ফারিহা? আবীর পকেটে হাত দিয়ে মোবাইলটা বের করল। ক্ষীণ আলোয় খানিকটা আলোকিত হল সামনের কিছু অংশ। ঘুরে ঘুরে চারপাশটা দেখল আবীর। পুরো ঘরে ভৌতিক এক নিরবতা। নিশ্বাসের আওয়াজ শোনা যাচ্ছে শুধু। হঠাত খুট করে শেষ মাথার দরজা খুলে গেল। কেউ একজন বের হয়ে আসল দরজা খুলে। দূরে হওয়ায় এই অল্প আলোয় দেখতে পাচ্ছে না সেই ছায়ামূর্তিকে। আসতে আসতে সেই ছায়ামূর্তিই টর্চ জ্বালল। আলোকিত হল চারদিক খানিকটা। আবীর দেখল ফারিহাই এগিয়ে আসছে। কাছে এসে বলল, আলো আনতে গিয়েছিলাম। এই কথাটাও ফারিহা একেবারে কাছে এসে বলল। ঠিক কানের কাছে।

আশ্চর্য! নিশ্বাসের শব্দ নেই ফারিহার। আবীরের হাত ধরল ফারিহা। ঠান্ডা সেই হাত! গলা ধরে এল তার। আবীর বুঝতে পারছে সে কোথায় ফেসে যাচ্ছে। ফারিহা আবীরের হাত ধরে নিয়ে চলল সামনেকার দরজার দিকে। ভেতরে ঢুকতেই দরজা বন্ধ হয়ে গেল। ভেতরে এসে ফারিহা আবীরের দিকে ঘুরে গেল। আবীর দেখল মায়াবী দু চোখ এখন ফারিহার। সেই সকালবেলার মত ভয়ার্ত। ফারিহা আবারও কানের কাছে মুখ নিয়ে আসল। কাঁদছে ফারিহা! বলল, “তুমি কেন আসলে এখানে? বল, তুমি কেন আসলে?” কথাটা শুনে আবীর ভয় কাটিয়ে বলল, “আমার মনে হয়েছে তুমি খুব একা। আর আজকে সপ্নের কথা বলায় খুব চিন্তা হচ্ছিল। তাই….।

ফারিহার চোখ গড়িয়ে পানি পড়ছে। জড়িয়ে ধরল সে আবীরকে। বলল, “আমি সত্যি খুব দুঃখিত। আমাকে ক্ষমা করে দিও।” এমন সময় ভয়ংকর কোন এক পুরুষ কন্ঠ নিরবতা ছাপিয়ে হেসে উঠল। আবীর হচকচিয়ে গেল। পড়ে গেল টর্চ হাত থেকে। আবীর অনুভব করল ফারিহা নেই। হাসি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। যেন ভয়ংকর কোন দানব হাসছে আসন্ন শিকারের ভক্ষনের পুর্বে।

চলবে…….

Comments

comments