অজানা আতংক (প্রথম পর্ব)

0
সাঈদ মোঃ তানজিদ||

প্রথম পর্ব:


“আপনার জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর দুঃসপ্ন কি? কিংবা ভয়ংকর কোন কল্পনা যা আপনি আর কখনো ভাবতে চান না?” – এক নিশ্বাসে প্রশ্নগুলো করে একটু দম নিলো ফারিহা। দুচোখে তার জিজ্ঞাসা। আবির প্রশ্নগুলো শুনেও উত্তর দিলো না। প্রতিউত্তরে তাকিয়ে থাকলো শুধু কিছুক্ষন। ফারিহা এবার উত্তর পাবার আশা ছেড়ে বলল, – “দেখুন, আপনি না বললেও আমি বলছি। আমার কয়েকদিন থেকে মনে হচ্ছে আমার আশেপাশের কিছু মানুষ আসলে মানুষ না। এরা রূপ ধরে থাকে যতক্ষণ রাত গভীর না হয়। তাছাড়া…”

আবির বিষ্ময় চেপে রাখতে না পেরে মাঝপথে প্রশ্ন করে বসল, “হঠাৎ এরকম মনে হওয়ার কারণ?” তার কন্ঠে স্পষ্টত বিরক্তি। ফারিহা বলল, “বিশ্বাস করুন, গত ২/৩ সপ্তাহ থেকে আমি একই ধরণের সপ্ন রোজ দেখি। কখনো আমার ভাই, কখনো আমার বাবা, কখনোও বা আমার মৃত দাদী আমাকে তাড়া করেন। তাদের মুখাকৃতি বিভৎস থাকে। একবার তো আমার মাকেও দেখেছি।”

“বারবার দেখছ? ” অনিচ্ছা সত্ত্বেও আবিরের মন বলছে কথাটা বিশ্বাস করতে। তবু সে ফারিহাকে অভয় দিয়ে বাসায় পাঠিয়ে দিল। এই কয়েকদিন হল ফারিহার সাথে পরিচয় আবিরের। মিষ্টি মেয়ে তবে বেশ চুপচাপ। সহজ সরল আর আরো আট দশটা মেয়ের মত এত খোলামেলা না। ভালোই লাগে ফারিহাকে আবিরের। ফারিহার আবিরকে কেমন লাগে এটা নিয়ে আবির ভাবে মাঝে মাঝে। তবে আজ এমন একটা জিনিস ও শেয়ার করল তাতে বেশ টেনশন হচ্ছে মেয়েটাকে নিয়ে আবিরের। মনে হয় মেয়েটা খুব নিঃসংগ।

বাসায় ফিরে খেয়ে দেয়ে একটা ঘুম দিল আবির। যখন উঠল রাতের অন্ধকার গ্রাস করেছে চারপাশটা। ঘুম থেকে উঠেই আজ কেন যেন ফারিহার কথা খুব ভাবতে লাগল। সেই সাথে অর সপ্নের কথাটাও। ঠিক করল আজ ডিনারের পর যাবে একবার ফারিহার বাড়ির দিকে। ঠিক ১০ টায় বেরিয়ে পড়ল আবির। বাড়িটা শহরের প্রায় শেষ মাথায়। মফস্বল শহর হওয়ায় এত রাতে রিক্সা পর্যন্ত পাওয়া যাবে না। হেটে হেটে আসতে ঘন্টা খানেকের মত লাগল ওর। ফারিহার বাবা প্রাক্তন সেনেটরের কাছে থেকে বাড়িটা কিনেছেন। বেশ বিলাসবহুল লাগছে বাইরে থেকে বাড়িটাকে। তবে নিস্তব্দ। তেতলা বাড়ির দ্বিতীয় তলার একটা ঘরে বাতি জ্বলছে। আবির ভাবল নক করবে। পরে ভাবল দেখি একটু চারপাশটা।

Comments

comments