‘আমি তো মানুষ নই, মানুষগুলো দেখতে অন্যরকম’

0

রাইজিং ডেস্ক।। 

সময় সন্ধ্যা ৭টা ৩০মিনিট। আমি আর আমার ফ্রেন্ড একটি রেস্টুরেন্টে খাওয়ার জন্য যাই। দুজনে পেট পুরে খেয়ে বেড়িয়ে আসার সময় দেখি রেস্টুরেন্টের গেটে বসে আছে ছোট্ট একটি মেয়ে। যে ই বাইরে যাচ্ছে তাঁরই পা ধরছে আর টাকা চাচ্ছে। অনেকক্ষণ দাঁড়িয়ে দেখলাম কেউ টাকা দিচ্ছে না।কিন্তু যারা বেড়িয়ে আসছে তারা সবাই তথাকথিত গার্ল ফ্রেন্ডকে হাজার টাকা খাইয়ে বেড়িয়ে যাচ্ছে,কারো কাছে তাকে দেওয়ার মত দুই টাকা নাই বলে আমার মনে হল। তারপর আমি আমার সাধ্যমত তাকে কিছু টাকা দিয়ে লিফট উঠতেই সে আমার দিকে তাকিয়ে এত সুন্দর আর মায়াবী হাসি দিল যে আমার মনকে নাড়া দিয়ে গেল। আমি লিফট থেকে নেমে আমার ফ্রেন্ড সাইফকে বললাম দোস্ত চল উপরে যাব ওকে খাওয়াইয়া আসি। তখন সে আর আমি আবার উপরে গিয়ে তাকে খাবারের কথা বলতেই মহা খুশি ।আমি উপরে গিয়ে দেখি সে একের পর এক লোকের পা ধরছে, একজন কে তো বলতেই দেখলাম আরে আমারে মাফ কর । আমরা কত ফকির,ফকিরের কাছে ও ভিক্ষা চাই।

এরপর তাকে নিয়ে রেস্টুরেন্টে যায় কিন্তু সে ডুকতে ভয় পাচ্ছে আমি তাকে অভয় দিয়ে নিয়ে গেলাম আর খাবারের অর্ডার দিলাম । ইচ্ছা ছিল ওখানে বসে ওকে খাওবো কিন্তু এত ভিড় যে যায়গা পেতে আরো ২০মিনিট লাগবে ।আমার কাছে অত সময় ছিলনা ,তাই পার্সেল নিয়ে বাইরে সিড়িতে বসে খাওয়ালাম। সে আমাকে আবার খাওয়াতেও নিল ,আমার মুখে তুলে দিচ্ছে সে, আমি বললাম আমি খেয়েছি এটা তুমি খাও।সে মজা করে খাচ্ছে আমি আর আমার ফ্রেন্ড শুধু তাঁর খাওয়াই দেখছি। কিন্তু অর্ধেক খেয়ে সে আর খাচ্ছে না আমি বললাম খাও, সে বলে বাড়িতে মায়ের জন্য নিয়ে যায় এইটুক।আমার চোখ ছলছল করে উঠল তারা কথায়। কত ভালবাসা মায়ের জন্য।আমি ও তো মাত্র খাইলাম একবারও তো মায়ের কথা ভাবলাম না। আর সে অইটুকু খাবারের মধ্য থেকে ও মায়ের জন্য নিয়ে যাবে নিজে না খেয়ে। ভালবাসা জন্মে তো আগেই গেছে আমিনার ওপর। আমিনার প্রথম হাসিই আমাকে তাঁর প্রতি ভালবাসা জন্মাতে বাধ্য করেছে। আমি আমিনাদের অনেক অনেক ভালবাসি।

আমিতো মানুষ নই, মানুষগুলো দেখতে আমিনাদের মত।

“আমিনাদের জয় হোক”

 

ভিভিড ওয়াদুদের ফেসবুক ওয়াল থেকে সংগৃহীত । 

Comments

comments