কোটা নিয়ে বানিজ্য হয়েছে, এখনো হচ্ছে

0

 সাদ্দাম হোসেন।।

সরকারি চাকুরিতে কোটার কোন দরকার নেই। আমরা মেধাবীদের প্রশাসনে দেখতে চাই। ২য়, ৩য় এবং ৪র্থ শ্রেণীর চাকুরিতেও মেধাবীরা এখন আবেদন করছে। তাই এসব ক্ষেত্রেও শতভাগ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। কোথাও শতকরা ১০ ভাগের বেশি কোটা রাখা উচিত হবে না।

সোমবার(৩০শে এপ্রিল) সকাল ১০টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়(ঢাবি) ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রে(টিএসসি) সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ কর্তৃক আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এসব কথা বলেন জগন্নাথ বিশ্বকিদ্যালয়ের ইংরেজী বিভাগের অধ্যাপক নাসিরউদ্দিন আহমেদ।

এসময় তিনি আরো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলনে শিক্ষার্থীরা সর্বোচ্চ মাত্রায় শান্ত ছিল। তাদের এ আন্দোলন কোনভাবেই সহিংস ছিল না। তারা একটা রিকশার টায়ারের বিন্দুমাত্র ক্ষতিও করেনি, ভিসির বাসভবন তো দূরের কথা। ভিসির বাসভবনে কারা হামলা করেছে তা আমরা সকলেই জানি। কাজেই ভিসির বাসভবনে হামলার ঘটনা নিয়ে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের হয়রানি করা অযৌক্তিক।

মতবিনিময় সভায় অন্যান্যদের মধ্যে ঢাবি গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক রোবায়েত ফেরদৌস বলেন, আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কোনভাবে হয়রানি করা হলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা চুপ থাকবে না। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা সবসময় তাদের শিক্ষার্থীদের পাশে ছিল এবং থাকবে।

তিনি আরো বলেন, সময় তোমাদের জন্য বসে থাকবে না। তাই সময় থাকতেই তোমরা সংঘবদ্ধ হয়ে আন্দোলনে সোচ্চার হও এবং নিজেদের যৌক্তিক দাবিগুলো আদায় করে নাও। এসময় তিনি শিক্ষার্থীদের কোনো প্রকার ষড়যন্ত্রের ফাঁদে পা না দেয়ার জন্যও আহ্বান জানান।

সভায় ঢাবি অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক এমএম আকাশ বলেন, শিক্ষকরা শিক্ষার্থীদের অভিভাবক। তারা তাদের বাবা মায়ের মতো। বাবা-মা ভুল হলে তাদের সন্তানকে শাসন করেন। কিন্ত তাদের সন্তানদের উপর কেউ অন্যায়ভাবে আক্রমণ করলে তারা যেমন সহ্য করতে পারেন না তেমনভাবে কোন শিক্ষার্থীর উপর অন্যায়ভাবে আক্রমণ করা হলে শিক্ষকরা সহ্য করতে পারেন না।

তিনি আরো বলেন, কোটা সংস্কার আন্দোলন কোন রাজনৈতিক আন্দোলন নয়, এটা হলো এদেশের সাধারণ শিক্ষার্থীদের আন্দোলন। তাই কোটা সংস্কার আন্দোলন যৌক্তিক। আমি একজন মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে মনে করি, কোটার জন্য মুক্তিযোদ্ধারা যুদ্ধ করেননি।

সভায় সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক নুরুল হক নুরের সঞ্চালনায় অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন ঢাবি বাংলা বিভাগের অধ্যাপক আরুল কাশেম ফজলুল হক, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. তানজীম উদ্দিন খান, ভাষা বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক সৌরভ শিকদার, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের অধ্যাপক ড. ফাহমিদুল হক ও সহযোগী অধ্যাপক আব্দুর রাজ্জাক খানসহ আরো অনেকে।

ক্যাম্পাসে স্থিতিশীল পরিবেশ ও শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মাঝে এ মতবিনিময় সভার আয়োজন করে।

Comments

comments