খসে পড়া চুন, ভাঙ্গা জানালার গ্লাস, ভুতুড়ে বাড়ি মিরপুর

0

শোভন দেবনাথ||

ভূতের বাড়িটা স্থানীয়ভাবে বেশ নামকরা। আগে অনেককেই ভূতের বাড়ি ভূতের বাড়ি বলে ডাকতে শুনতাম। তবে এখন বিল্ডিংটাকে হাজীর বিল্ডিং নামেই বেশি শোনা যায়।
বিল্ডিংটার মালিক এক হাজী সাহেব। তার আসল নাম কী জানি না। আসলে জানার চেষ্টাও করিনি। এটি কোনো অনুসন্ধানীমূলক পোস্ট নয়। এটি কেবল লোকমুখে যেসব কথা প্রচলিত আছে সেসব নিয়েই একটি ‘জানানোমূলক পোস্ট’।

তো আমাদের এই ভূতের বাড়ির অবস্থান ঢাকার ব্যস্ততম এলাকা মিরপুর এক নম্বর। মিরপুর মাজার রোডের বুদ্ধিজীবি শহীদ মিনারের খানিকটা উত্তরে এই ভূতের বাড়ির অবস্থান। এই ভূতের বাড়ির ইতিহাস কিছুটা বোরিং টাইপের। কিন্তু যথেষ্ট ইন্টারেস্টিংও।
আমি প্রথম থেকে এই বাড়িটি একদম খালি দেখে আসছি।অনেকেই বহু বছর থেকে এমন দেখে আসছে। তখন অবশ্য বাড়ির চেহারা এখনকার মতো করুণ ছিল না। খসে পড়া চূনের রঙে ভর্তি ছিল পুরোটা বিল্ডিং। কাঁচগুলো সেই শুরু থেকেই একইভাবে ভাঙ্গা। জীবনে কাউকে এই বাড়ির দোতলা বা তিনতলায় উঠতে দেখিনি। জনমানুষের ছায়াও নেই এই বাড়িটিতে। এতো ব্যস্ততম রাস্তার ধারে এই বাড়ির বাউন্ডারির ভেতরটা যেন সেই কলিযুগ থেকেই খালি।

তবে একেবারে খালি বলার উপায় নেই। বাড়ির নিচতলায় দোকান রয়েছে। বছর দুই-এক আগে দেখলাম থাই-এর দোকান দিয়েছে। কিন্তু দোকানটা কোনো এক অজ্ঞাত কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। অথচ ব্যবসা বেশ ভালোই যাচ্ছিল দেখা গেছে। তারপরও কেন দোকান বন্ধ হয়ে গেল, এই প্রশ্নের উত্তর দেয়ার যেন কেউ নেই।
অদ্ভূত এই বাড়ি। এই বাড়ির নিচে যতদিন দোকান ছিল ততদিনই বাড়িটিতে মানুষের আনাগোনা ছিল। কিন্তু বাকি সময়টা এই বাড়ি নিরব-নিস্তব্ধ। এখন সারাদিনই এক অবস্থা। বছরের পর বছর ধরে এই বাড়িতে কেউ রাত কাটায় না। রাত কাটানোর অযোগ্য একটি বাড়ি এটি, লোকমুখে এমনটাই শোনা যায়।

 

Comments

comments