গরমের অসুখ ও তার প্রতিকার

0

রাইজিং ডেস্কঃ 

শীতের সদ্য সমাপ্তি এবং গরমের শুরুতে নতুন কিছু অসুখের প্রাদুর্ভাব ঘটেছে। এসব অসুখের কারণ এবং প্রতিকার সম্পর্কে আগে-ভাগে জানা থাকলে অনেক ক্ষেত্রেই তা প্রতিরোধ করা সম্ভব। একেকটি ঋতু পরিবর্তনে আবহাওয়ার বেশ কিছু পরিবর্তন হয়। আবহাওয়ার এই পরিবর্তন রোগ সৃষ্টিকারী বিভিন্ন অণু-জীবাণুর বংশবৃদ্ধি ও মানবদেহে রোগ সৃষ্টিতে ভিন্ন মাত্রা যোগ হয়। তাপমাত্রার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে শরীরের অভ্যন্তরীণ কিছু পরিবর্তন হয়। এই সার্বিক পরিবর্তনের ফলে বিভিন্ন ঋতুতে বিভিন্ন রকমের রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে যায়।

গরমের রোগ সমূহঃ 
গরমে বা তাপমাত্রা বৃদ্ধিতে মানুষ প্রধানত দুইভাবে আক্রান্ত হয়
অতি তাপমাত্রাজনিত সমস্যা ও জীবাণু সংক্রমণজনিত রোগ।

  • অতি তাপজনিত সমস্যা
    চার বছরের কমবয়সী শিশু, ৬০ বছরের বেশি বয়সী মানুষ, বেশি মোটা এবং বিভিন্ন রোগগ্রন্থ ব্যক্তিরা অতি তাপজনিত সমস্যার ঝুঁকিতে থাকেন। এগুলোর মধ্যে অন্যতম অধিক ঘামজনিত পানি স্বল্পতা, রক্তে লবণের মাত্রা কমে যাওয়া, অতি দুর্বলতা, হাত-পা কামড়ানো, মাথা ব্যথা, মাথা ঘুরানো ও বমি বমি ভাব বা বমি হওয়া। এছাড়া অতি তাপে হিট স্ট্রোক বা খিঁচুনি থেকে অজ্ঞান হয়ে মানুষের মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। বিভিন্ন চর্মরোগ, যেমন ঘামাচি, চামড়ায় ফোস্কা পড়া, লাল হয়ে যাওয়া, চুলকানির মতো সমস্যাও হতে পারে।

 

  • গরমের বিশেষ রোগ সমূহ
    সর্দি, কাশি, ভাইরাল জ্বর, ইনফ্লুয়েঞ্জা, ডেঙ্গু, হাম, বসন্ত, টাইফয়েড, ডায়রিয়া, জন্ডিস, মেনিনজাইটিস, এনসেফালাইটিস ইত্যাদি। এর মধ্যে সর্দি, কাশি এবং ভাইরাসজনিত জ্বরের হার সবচেয়ে বেশি। কারো কারো শ্বাসকষ্ট বা সর্দির সমস্যা থাকলে সেটা বেড়ে মারাত্মক আকার ধারণ করতে পারে। সাধারণ আমাশা এবং রক্ত আমাশা বেড়ে যেতে পারে। দূষিত পানি ও খাদ্য থেকে কলেরার মাত্রা অনেক বেশি হতে পারে।

 

উত্তাপজনিত সমস্যা

প্রতিরোধে করণীয়
* পর্যাপ্ত এবং প্রয়োজনে প্রচুর জীবাণুমুক্ত পানি পান করুন।
* চিনিযুক্ত পানি, কোমল পানীয় ও অতি ঠাণ্ডা পানি বর্জন করুন। কারণ এক্ষেত্রে ঘাম বেড়ে গিয়ে পানিস্বল্পতা দেখা দিতে পারে।
* অতি গরমে ছায়াযুক্ত স্থান অথবা ঘরের মধ্যে অবস্থান করুন।
* বেশি ঘেমে গেলে পানি দিয়ে শরীর মুছে ফেলুন অথবা গোসল করে ফ্যান ছেড়ে শরীর শুকিয়ে ফেলুন।
* হালকা ও সুতি জামা পরিধান করুন।
* রোদের মধ্যে পরিশ্রম না করে সকালে বা বিকালে স্বল্প সময়ে কাজ সেরে ফেলুন।
* বেশি ঘাম হলে লবণযুক্ত শরবত পান করুন। এক্ষেত্রে খাবার স্যালাইন খাওয়া যেতে পারে।
গরমের অন্যান্য রোগ প্রতিরোধে করণীয়
* ফুটানো এবং বিশুদ্ধ পানি পান করুন।
* ফুটপাতের খোলা জায়গার খাবার খাবেন না।
* ধুলাবালিতে মাস্ক ব্যবহার করুন।
* সর্দি বা কাশির শুরুতেই ডাক্তারের কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণ করুন।
* বসন্ত আক্রান্ত রোগীদের থেকে দূরে থাকুন।
* জ্বর হলে পর্যাপ্ত পানি বা স্যালাইন পানি গ্রহণ করুন। জ্বরের মাত্রা যদি বেশি হয় বা বমিসহ পেট ব্যথা হলে দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
* ডায়রিয়া আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত স্যালাইন পানি পান করুন এবং তিন দিনে জ্বর না কমলে ডাক্তারের শরণাপন্ন হোন। -সুত্রঃ ডা. মো. নাহিদুজ্জামান সাজ্জাদ, মেডিসিন বিশেষজ্ঞ, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়

Comments

comments