জাপানের রহস্যময় ভুতুড়ে দ্বীপ গুনকাজিমা

0

সাদ্দাম হোসেন:

জাপানের একসময়কার কর্মচঞ্চল দ্বীপ গুনকাজিমা(হাশিমা) এখন ভুতুড়ে দ্বীপে পরিণত হয়েছে। একটা সময় এখানে মানুষ গমগম করলেও এখন তা জনশূন্য দ্বীপে পরিণত হয়েছে। মানুষ না থাকলেও ১৫ একরের জাহাজের মতো  এই দ্বীপটিতে মানুষের ঘরবাড়ি ঠিকই আছে।  কি এমন হয়েছিল যার জন্য ৪৪ বছর ধরে নাগাসাকি থেকে মাত্র ১৫ কিলোমিটার দূরবর্তী এই দ্বীপটি জনশূন্য হয়ে আছে? আসুন জেনে নেই এই রহস্যময় দ্বীপের কাহিনী।

১৮১০ সালে এই দ্বীপটি আবিষ্কৃত হয়। এরপর পরই এই দ্বীপের চেহারা পুরো পাল্টে যায়। সেসময় এটি প্রবাল দ্বীপ ছিল। আস্তে আস্তে দ্বীপটিতে মানুষের পদচারণা বাড়তে থাকে। শিল্পায়নের সময় এখানে কয়লার খনি আবিষ্কৃত হওয়ায় মানুষের পদচারণা ব্যাপক হারে বেড়ে যায়। ১৯৫৯ সালে গুনকাজিমা হয়ে ওঠে প্রায় ৫০০০ মানুষের একটি ছোট্ট দ্বীপ নগরী। সারি সারি বাড়ি বানিয়ে মানুষেরা এখানে বাস করতে শুরু করে।

ষাটের দশকে পেট্রোলিয়াম আসার পর এই দ্বীপে হাহাকার নেমে আসে। কেননা পেট্রোলিয়ামের ব্যাপক ব্যবহারের কারণে কয়লার ব্যবহার কমে আসে। তাই জাপানের অন্যান্য কয়লাখনিগুলোর মতো গুনকাজিমা দ্বীপের কয়লাখনিতেও ধ্বস নেমে আসে।

১৯৭৪ সালে বন্ধ হয়ে যায় গুনকাজিমা দ্বীপের কয়লাখনি। ৫০০০ মানুষ তাদের কর্মসংস্থান হারায়। কজের জন্য যারা এই দ্বীপটিতে নিজেদের আবাস গড়ে তুলেছিলেন তাদের আর জীবিকার কোন আশা রইল না। তাই তারা আবার নিজেদের পিতৃভূমিতে ফিরে যেতে শুরু করলেন। রয়ে গেল তাদের ঘরবাড়িগুলো।

কয়লা খনি বন্ধ হয়ে যাবার পর সেখানে যাতায়ত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে দেয়া হয়। ফলে যত্নের অভাবে সেখানে নির্মিত ঘরবাড়িগুলোর ক্ষয় হতে থাকে, নষ্ট হতে থাকে আসবাবপত্রগুলো, বয়সের ভারে ক্ষয়ে যেতে থাকে বহুতল কংক্রিটের দালানগুলো। নিঃশেষ হতে থাকে ৫০০০ মানুষের স্মৃতিবিজড়িত এই দ্বীপটি। ৩৫  বছর পরে ২০০৯ সালে ঐ দ্বীপটিতে যাতায়তের উপর নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়া হয়। তবে নিষেধাজ্ঞা তুলে দেয়ার ৯ বছর পরেও দ্বীপটি আর তার আগের অবস্থা ফিরে পায়নি। সেখানে সাহসী কেউ গেলেও দূরে দাড়িয়ে ছবি তোলা ছাড়া আর কিছুই করতে পারে না। ভবনগুলোর অবস্থা ধ্বসে পড়ার মতো হওয়ায় কেউ চাইলেও ভেতরে প্রবেশ করতে পারে না। তাই সকলের কাছে দ্বীপটি এখন রহস্যময় ও ভুতুড়ে দ্বীপ।

Comments

comments