ধুনটে শতবর্ষী গরিবের ভাগ্যে জোটেনি প্রতিবন্ধী ভাতা

0

রফিকুল আলম, ধুনট (বগুড়া) প্রতিনিধি:

শহিদ পাগলা। ভাল নাম শহিদুল ইসলাম। হালকা পাতলা গড়ন। চমৎকার মনের মানুষ। জন্ম থেকেই মুখে বয়সের বলিরেখা। শরীরের চামড়া ঢিলে। ফোকলা দাঁত। শতবর্ষী এই মানুষটির মুখে আজও দাড়ি-গোফ গজায়নি। কথাও ভাল বোঝা যায় না। শ্রবন শক্তি কম। আচরনে তেজী ভাব।

শহিদ জন্মগত প্রতিবন্ধী। দারিদ্রতার শিকলে বাধা জীবন। সহায় সম্বল বলতে কিছু নেই। পরের বাড়িতে থাকে। অন্যের দান দক্ষিনাতেই জীবিকায়ন। জীবনে সংসার গড়াও হয়নি। নাগরিক সুবিধা বঞ্চিত মানুষের জীবন্ত সাক্ষী শহিদুল। বাড়ি বগুড়ার ধুনট উপজেলায় মথুরাপুর ইউনিয়নের অলোয়া গ্রামে। শৈশবে মারা গেছে বাবা মহেশ প্রামানিক।

কাজ করার শক্তি নেই শরীরে। তাই জীবিকার তাগিদে পথে পথে ঘুরে বেড়ায়। অন্যের সাহায্য নিয়েই বেঁচে আছে। বয়সের ভারে নুয়ে পড়েছে। আগের মতো আর চলার সামর্থ নেই। লাঠিতে ভর দিয়ে হাঁটতে হয়। জীবনযুদ্ধে অনেকটাই পর্যদুস্থ্য। জীবনের শেষ প্রান্তে এসেও জীবিকার নিরন্তর লড়াই। আর যেন কিছুতেই কুলে উঠতে পারছে না।

বাড়ি থেকে এক কিলোমিটার দুরে মথুরাপুর বাজার। সেখানেই তার দিনভর বিচরণ। বাজারের মানুষের কাছেই হাত পেতে সহায়তা নেয়। জীবনের প্রতিটি বসন্ত কাটছে এই বাজারকে ঘিরে। এখানকার সব মানুষের সাথে তার সখ্যতা। তাকে চেনে না এমন মানুষ বাজারে কমই রয়েছে।

স্থানীয় কিংবা জাতীয় নির্বাচন এলেই শহিদের কদর বাড়ে। নির্বাচনী মিছিলের অগ্রভাগে শহিদের রশিকতা শোভা বর্ধন করে। শহিদ ছাড়া যেন মিছিলই জমে উঠে না। নির্বাচনের সময় জনপ্রতিনিধিরা কথা দেন শহিদকে। ভোটে জিতলে শহিদের জীবিকার নিশ্চয়তা হবে। কিন্ত নির্বাচনে জিতে আর কেউ কথা রাখে না। খোঁজ রাখে না শহিদ কেমন আছে ? তাই শহিদের ভাগ্যে আজও জোটেনি সরকারি সহায়তা। আশা নিরাশার দোলায় দুলছে প্রতিবন্ধী শহিদের বেচে থাকার স্বপ্ন।

প্রতিদিন গড়ে প্রায় এক’শ টাকা দান দক্ষিনা মেলে। এই টাকায় চলে তার কষ্টের জীবন। প্রাকৃতিক দূর্যোগ কিংবা অসুস্থ হলে আয়ের পথ বন্ধ হয়। সেদিন তাকে উপোষ থাকতে হয়। খেয়ে না খেয়ে দূর্বিষহ জীবন কাটছে শহিদের। অথচ শহিদ সরকারি ভাবে বয়স্ক অথবা প্রতিবন্ধী ভাতা পওয়ার যোগ্য।

শহিদুল ইসলাম জানান, সরকারি সহায়তার জন্য এলাকার জনপ্রতিনিধিদের নিকট অনেক ঘুরেছে। তাদের কাছ থেকে প্রতিশ্রুতিও মিলেছে বহুবার। কিন্ত টাকা দিতে না পারায় তার ভাগ্যে আজও মাসিক ভাতা জোটেনি।

উপজেলার মথুরাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হারুন-অর-রশিদ সেলিম বলেন, শহিদুল ইসলাম সরকারি ভাতা পায় না এমন কথা কেউ আমাকে বলেনি। তারপরও খোজ-খবর নিয়ে তার নামে বয়স্ক অথবা প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবস্থা করা হবে।

Comments

comments