ভিসির বাসভবনে হামলার সাথে আরও ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ

0

সাদ্দাম হোসেন, ঢাবি প্রতিনিধি

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসির বাসভবনে হামলা ও ভাংচুরের সাথে জড়িত আরো ১৭ জনকে শনাক্ত করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ(ডিবি)। হামলার আগে ও পরে ঢাবির বিভিন্ন এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ দেখে তাদের শনাক্ত করা হয়েছে।

ঢাকা মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার মাসুদুর রহমান এব্যাপারে গণমাধ্যমকে বলেন,  যাদেরকে শনাক্ত করা হয়েছে তাদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তারা আর কার নির্দেশে আর কাদের সঙ্গে নিয়ে উপাচার্যের বাসায় হামলা চালিয়েছিল তা জানার চেষ্টা চলছে।

এর আগে রবিবার দুপুরে রাজধানীর চানখাঁরপুল এলাকা থেকে রাকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৬), মাসুদ আলম ওরফে মাসুদ (২৫), আলী হোসেন শেখ ওরফে আলী (২৮) এবং আবু সাইদ ফজলে রাব্বী ওরফে সিয়াম (২০) নামে চার জনকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। গ্রেফতারের পর বিকালে তাদের ঢাকার মুখ্যমহানগর হাকিম আদালতে সোপর্দ করে রাকিবকে চার দিন, মাসুদকে তিন দিন, আলী হোসেন ও আবু সাইদকে দুই দিন করে রিমান্ডে নেওয়া হয়।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, গ্রেফতার হওয়া চার জনের কাছ থেকে দুটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়েছে, যার মধ্যে একটি মোবাইল ফোন হামলার দিন উপাচার্যের বাসা থেকে অন্যান্য জিনিসপত্রের সঙ্গে লুট করে নিয়ে গিয়েছিল হামলাকারীরা। ওই মোবাইলটি সিয়ামের কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদে সিয়াম হামলার সময় মোবাইলটি লুট করে নিয়ে যায় বলে প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকারও করেছে। গ্রেফতার হওয়া চার জনের মধ্যে মাসুদ ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্র হলেও বাকি তিন জন কর্মজীবী। রাকিবের নামে বরিশাল ও লক্ষ্মীপুরে পাঁচটি মামলা রয়েছে বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা জানান, ঘটনার পরপরই তারা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেন। এছাড়া যে দুটি মোবাইল খোয়া গিয়েছিল, তথ্য প্রযুক্তির মাধ্যমে সেটিও শনাক্তের চেষ্টা করা হয়। তদন্তে গ্রেফতার হওয়া এই চার জন ছাড়াও আরও অন্তত ১৭ জনের সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাওয়া যায়। হামলার পর এদের বেশিরভাগই ফুলার রোড দিয়ে ক্যাম্পাস থেকে বের হয়ে যায়।
সূত্র জানায়, সিসিটিভি ফুটেজে পাওয়া ছবি সংগ্রহ করে তাদের শনাক্ত করতে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সহায়তা নেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিভিন্ন হলের প্রভোস্টের সহায়তায় হামলা-ভাঙচুরে অংশগ্রহণকারীদের শনাক্ত করে। এর মধ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজয় একাত্তর হলের কয়েকজন শিক্ষার্থীও রয়েছে বলে জানা গেছে। তারা কে কোন বিষয়ের ছাত্র এবং গ্রামের বাড়িসহ বর্তমান অবস্থানও গোয়েন্দা নজরদারির মধ্যে রয়েছে।

উল্লেখ্য, কোটা সংস্কার আন্দোলন চলাকালীন গত ৯ এপ্রিল ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য আখতারুজ্জামানের বাস-ভবনে অজ্ঞাত দুষ্কৃতিকারীরা প্রবেশ করে ব্যপক ভাঙচুর চালায়। দুষ্কৃতিকারীরা উপাচার্যের বাসার নিচে থাকা চারটি গাড়ি ভাঙচুর করে আগুনে পুড়িয়ে দেয়। এ ঘটনায় পরদিন ১০ এপ্রিল বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র সিকিউরিটি অফিসার এস এম কামরুল আহ্সান বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, গত ৯ এপ্রিল অজ্ঞাত মুখোশধারী সন্ত্রাসী ও দুষ্কৃতকারীরা লোহার রড, পাইপ, হামার, লাঠি নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের বাসভবনে হামলা চালায়। তারা সীমানা দেয়াল টপকে এবং ভবনের মূল ফটকের তালা ভেঙে ভবনের ভেতরে ঢোকে। এ সময় বাসভবনে মূল্যবান জিনিসপত্র, আসবাব, ফ্রিজ, টিভি, লাইট, কমোড ও বেসিনসহ অনেক মালপত্র ভাঙচুর ও লুট করা হয়। এছাড়া ভবনে রাখা দুটি গাড়ি পুড়িয়ে দেয়া হয় এবং আরও দুটি গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। হামলাকারীরা নিজেদের পরিচয় আড়াল করতে ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরাগুলো ভেঙে ফেলে এবং আগুনে পুড়িয়ে নষ্ট করে ফেলে যায়।

Comments

comments