সরকারী চাকুরী: মাধ্যমিক শিক্ষক নিয়োগে সুখবর আসছে

0

রাইজিং ডেস্ক:

পাঠদানে ব্যাহত হওয়া সরকারি মাধ্যমিক স্কুল গুলোতে শিক্ষকশূন্যতা দূরীকরণে সুখবর আসছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন উদ্যোগে শূন্য কোঠায় শিক্ষক নিয়োগ পাবে মাধ্যমিক স্কুল গুলুতে। আর এ তথ্য জানালো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি) ।

সরকারি কর্মকমিশনের (পিএসসি) মাধ্যমে বিসিএসের বিভিন্ন স্তর থেকে নন-ক্যাডারে আগ্রহীদের বিষয়ভিত্তিক শূন্যপদে সহকারী শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হবে। এ ছাড়াও সরাসরি বিজ্ঞপ্তি দিয়ে সহকারী শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষক নিয়োগের মাধ্যমে মাধ্যমিক সরকারি স্কুলগুলোয় শতভাগ শূন্যপদ পূরণ করা যায় কিনা, তা নিয়েও কাজ করছে মন্ত্রণালয় এবং পিএসসি।

সরাসরি নিয়োগে পিএসসির শর্ত পূরণ করে মন্ত্রণালয় নিয়োগ বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে। সরকারি মাধ্যমিক শিক্ষকদের নিয়োগ হবে পিএসসির মাধ্যমে। দীর্ঘদিন নিয়োগ নীতিমালা সংশোধন না হওয়ায় নিয়োগ বন্ধ থাকায় শিক্ষকশূন্যতায় পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে স্কুলগুলোয়, বিশেষ করে মফস্বল জেলা-উপজেলার শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোয়। তবে শূন্যপদ পূরণে ৩৫তম বিসিএস থেকে ৭০৭ জনকে সুপারিশ করেছে সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের জন্য। তাদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পুলিশ ভেরিফিকেশনের কার্যক্রম চলমান। শিগগির তাদের নিয়োগ চূড়ান্ত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন মাউশি।

অতিসম্প্রতি শিক্ষা মন্ত্রণালয় মাউশিকে ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত কতজন শিক্ষক অবসরে যাবেন, কোন স্তরে কত শূন্যপদ তৈরি হবে। সেসবের আগাম পরিসংখ্যান তৈরি করতে নির্দেশনা দিয়েছে। সেই লক্ষ্যে কাজ করছে মাউশি।

মাউশির তথ্য অনুযায়ী, সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় সহকারী শিক্ষকের পদ আছে ১০ হাজার ৩৫০টি। এর বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত ৮ হাজার ৮৪ জন। পদ শূন্য রয়েছে ২ হাজার ২৬৬টি। সহকারী প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) পদ আছে ২৪৮, কর্মরত মাত্র ৬ জন। পদ শূন্য রয়েছে ২৪২টি। সহকারী প্রধান শিক্ষক (নারী) পদ আছে ২১৬টি, কর্মরত মাত্র একজন। শূন্য পদ ২১৫টি। প্রধান শিক্ষক (পুরুষ) পদ আছে ১৭১টি, বর্তমানে কর্মরত ১১৪ জন। শূন্য পদ ৫৭টি। প্রধান শিক্ষক (নারী) পদ ১৪৮, কর্মরত ৭৪ জন। শূন্য পদ ৭৪টি। সর্বশেষ জাতীয়করণসহ দেশে ৩৪২টি সরকারি মাধ্যমিক স্কুল রয়েছে।

মাউশির একজন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা  জানান, বিসিএস থেকে ৭০৭ জন সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগ সম্পন্ন করতে দ্রুত পুলিশ ভেরিফিকেশন শেষ করতে সহযোগিতা চেয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছে মাউশি। এ ছাড়াও ৩৬তম বিসিএস চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণদের মধ্যে থেকে ১ হাজার ৫৫৬ জনকে নিয়োগ দিতে শিক্ষা মন্ত্রণালয় পিএসসিতে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছিল। এর মধ্যে মাত্র ৩৪১ জনকে নিয়োগের সুপারিশ করে পিএসসি।

মাউশির পরিচালক (মাধ্যমিক) প্রফেসর আবদুল মান্নান সরকার  বলেন, সরকারি মাধ্যমিক স্কুলগুলোয় পাঠদান নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ সম্পন্ন করা হবে। একই সঙ্গে একটি আগাম ভাবনাও আছে, আগামী ২০১৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত যেসব শিক্ষক অবসরে যাবেন এমন একটি তালিকা করা, যাতে আগেই নিয়োগের প্রস্তুতি নেওয়া যায়। গুণগত মাধ্যমিক শিক্ষা নিশ্চিত করাই আমাদের লক্ষ্য। নিয়োগের পাশাপাশি পুরনোদের মধ্য থেকে নিয়মিত পদোন্নতি প্রদান করা যায় সেটিও দেখা হচ্ছে। খুব শিগগির একটা বড় সংখ্যক সহকারী শিক্ষকের পদোন্নতি দেওয়া হবে।

জানা গেছে, প্রায় চার বছর পরে ৫১২ জন সহকারী শিক্ষককে পদোন্নতির তালিকাও চূড়ান্ত করা হয়েছে। আগামী সপ্তাহে দুটি তালিকাই পিএসসিতে পাঠানো হবে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।

মাউশির সহকারী পরিচালক (মাধ্যমিক-১) সাখায়েত হোসেন বিশ^াস জানান, মামলা জটিলতা ২০১৪ সালের ৬ জুন থেকে সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকদের পদোন্নতি বন্ধ। গত বছর ৯ অক্টোবর সুপ্রিমকোর্ট পদোন্নতির বিষয়ে নির্দেশনা দিয়ে রায় দিয়েছেন। সেই অনুযায়ী এখন প্রক্রিয়া চলছে; শিগগির চূড়ান্ত হবে।

তথ্যমতে, গত ছয় বছরে অনেক শিক্ষক মারা গেছেন অথবা অবসরে যাওয়ায় পদের সংখ্যা একদিকে বাড়ছে, অন্যদিকে নিয়োগ বন্ধ। এর পর ২০১২ সাল থেকে পাঠ্যপুস্তকের কারিকুলাম ও সিলেবাস পরিবর্তন করা হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি (আইসিটি), শারীরিক শিক্ষা, কর্মমুখী শিক্ষা, চারু ও কারুকলা এই নতুন চারটি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। অথচ নতুন বিষয়ে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়নি। ফলে এক বিষয়ের শিক্ষককে পাঠদান করতে হচ্ছে অন্য বিষয়ে। এতে মানসম্পন্ন পাঠদান নিশ্চিত হচ্ছে না। ক্লাসে ঠিকমতো পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীরা কোচিংমুখী হচ্ছে। অভিভাবকদের পছন্দের শীর্ষে সরকারি হাইস্কুল থাকলেও তারা সন্তানকে বেসরকারি স্কুলে ভর্তি করেন। এর নেপথ্যে রয়েছে শিক্ষক সংকট।

রাজবাড়ী সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক এবং সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির সভাপতি মো. ইনছান আলী বলেন, দীর্ঘদিন ধরে সরকারি হাইস্কুলের শিক্ষকদের পদোন্নতি ও নিয়োগ বন্ধ ছিল। শিক্ষকরা পদোন্নতি পেলে পেশার প্রতি মনোযোগী হবে। নতুন নিয়োগে সারা দেশে শিক্ষক সংকটও দূর হবে।

Comments

comments