{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

সুনাগরিক সৃষ্টি করাই শিক্ষার মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য

প্রকাশঃ সোমবার, ২০ নভেম্বর ২০১৭    ১৪:১৪
মো. মাসুদ রানা

একটি দেশকে উন্নতির স্বর্ণশিখরে নিয়ে যেতে হলে সুশিক্ষার কোন বিকল্প নেই।সুশিক্ষা অর্জনের জন্য শিক্ষার্থীরা পারিবারিক শিক্ষার পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা গ্রহন করে থাকে। কিন্তু প্রশ্ন হল আমরা ক'জন শিক্ষার্থী জীবনে সুশিক্ষা অর্জন করতে পারি?

শিক্ষা অর্জনে প্রথম ধাপ হল প্রাথমিক বিদ্যালয়। অবিভাবকেরা পরীক্ষায় ভাল ফলাফল করার জন্য তাদের সন্তানদের উপর বিভিন্ন প্রকার চাপ সৃষ্টি করে থাকে যা কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মনে আঘাত হানে। ঘুম থেকে উঠেই কোচিং কিংবা কিন্ডারগার্টেন দিয়ে তাদের প্রতিটি সকাল শুরু হয় আর শেষ হয় রাতে ধর্মীয় শিক্ষার মধ্য দিয়ে। ছেলেমেয়েদের খেলাধূলা করার সময় কোথায়? সারাদিনতো লেখাপড়ার পেছনেই ব্যয় হয়।

একটি টিভি চ্যানেলের মাধ্যমে জানতে পেরেছি-একটি ছোট শিক্ষার্থী তার ওজনের চেয়ে বেশি পরিমান বই, খাতাসহ অন্যান্য শিক্ষার উপকরণ স্কুল ব্যাগে বহন করে থাকে! সবকিছুর পেছনে একটাই লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য সন্তানের এ প্লাস চাই-ই। ভাল ফলাফল করার জন্য ভাল মানের বিদ্যালয়গুলোতে ভর্তির হিড়িক পড়ে যায়। এখানে টিকতে হয় তাদের ভর্তি পরীক্ষা দিয়ে। সিট সংখ্যা কম থাকাতে সবার চান্স হয়না, অবিভাবকেরা (সবাই নয়)তাদের সন্তানদের অনেক কথা শোনায়, ফলে ছোট্ট বয়সেই তাদের মনে বিরুপ প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়।

অবিভাবকেরা ভাবে,আমাদের সন্তানরা যদি নিম্ন মানের বিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে তবে তাদের ফলাফল ভাল হবেনা এবং জীবনে ভাল কিছু করতেও পারবেনা। অথচ ঐ সব নামী দামী বিদ্যালয়গুলো বিভিন্ন শিট, পরীক্ষার ফিসহ অন্যান্য ফি বাবদ যে পরিমান টাকা নেয় তার কিয়দ্বংশ যদি অখ্যাত বিদ্যালয়ে পড়ুয়া শিক্ষার্থীর পেছনে ব্যয় করা হয় তবে হয়তবা সে ভাল ফলাফল করবে (কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম)।

যাক সে কথা, স্কুল কম দামি কিংবা বেশি দামি যা-ই হোক না কেন যে স্কুল আমাদের সুশিক্ষা প্রদান করবে শুধু তাকেই আমরা ভাল ও আদর্শ স্কুল বলব। কারন আমাদের ভাল ফলাফল অর্জন করাটা তো শিক্ষার মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য নয়। সুশিক্ষা অর্জন করে নিজেকে সুনাগরিক হিসেবে হিসেবে গড়ে তোলাটাই শিক্ষার মুল লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য। আর এই সুশিক্ষা দিতে একজন অাদর্শ শিক্ষকের ভূমিকা অপরিসীম।

বর্তমান সমাজে আদর্শ শিক্ষক খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে দাড়িয়েছে। বেশিরভাগ শিক্ষকই শিক্ষাকে ব্যবসা হিসেবে গ্রহন করেছে। সবাই টিউশনি পড়িয়ে টাকা উপার্জনে ব্যস্ত।গত পূজার ছুটিতে বাসায় গিয়ে জানতে পারলাম, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন অনার্স পাস করা শিক্ষক টিউশনি পড়ায়ে মাসে প্রায় পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকার মত আয় করে। এই যদি হয় একটা গ্রামের অবস্থা তবে শহরের অবস্থা তো আরও ভয়াবহ!

পত্র পত্রিকায় চোখ রাখলে আমরা প্রায়ই দেখতে পাই, এক প্রকার লোলুপ দৃষ্টির শিক্ষক রয়েছে যারা ছাত্রীদের উপর যৌন নির্যাতনসহ বিভিন্ন প্রকার অশালীন আচরন করে থাকে। এরা শিক্ষক জাতির কলঙ্ক। বাবা মায়ের পরেই যেখানে শিক্ষকের অবস্থান সেখানে তারা কিভাবে শিক্ষার্থীদের সাথে এরকম ব্যবহার করতে পারে তা বড়ই দুঃখের বিষয়। এই লম্পট শিক্ষকগুলো শিক্ষার্থীদের ভাল ব্যবহার আদৌ শেখাতে পারবে? কখনোই নয়।

বর্তমান যুগে পাশের হার বেড়েছে, ভাল ফলাফল ধারীর সংখ্যাও বেড়েছে, কিন্তু শিক্ষার্থীদের মানবিক মূল্যবোধ বেড়েনি বরং অনেকাংশে কমে গেছে। আমরা তো এমন শিক্ষিত সন্তান চাইনা যে কিনা বাবা-মাকে হত্যা করতে পারে, কোন একটি মেয়েকে দিনদুপুরে ধর্ষণ করে খুন করতে পারে এবং জঙ্গির মত ভয়াবহ কার্যক্রম চালাতে পারে। বরং আমরা এমন শিক্ষিত সন্তান চাই যে তার বাবা- মা,ভাই -বোন, পাড়া -প্রতিবেশী ও নিজের দেশকে ভালবাসবে, অপরের বিপদে পাশে থাকবে, সর্বোপরি নিজেকে একজন সুনাগরিক হিসেবে গড়ো তুলবে। এর জন্য চাই আদর্শ স্কুল এবং আদর্শ শিক্ষক যেখানে শিক্ষার্থীদেরকে শুধু পাঠ্যপুস্তকের বিদ্যাই শেখানো হবেনা, সেখানে শেখানো হবে কিভাবে নিজেকে একজন ভাল মানুষ হিসেবে গড়ে তোলা যায়।

সাম্প্রতিক সময়গুলোতে প্রাথমিক ও উচ্চ বিদ্যালয়ে যে সকল শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তারা সবাই উচ্চ শিক্ষিত এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নাই কিন্তু তারা সবাই চরিত্রবান নন। তাই শিক্ষক নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে যদি অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে চরিত্র যাচাই বাছাই করে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয় তাহলে জাতি পাবে একঝাঁক মেধাবী ও চরিত্রবান শিক্ষক যারা আমাদের সন্তানদেরকে খাঁটি মানুষ হিসেবে গড়ে উঠতে সাহায্য করবে। আর অবিভাবকদের প্রতি বলছি, দয়া করে আপনারা আপনাদের সন্তানদের উপর ভাল ফলাফল করার জন্য অযথা চাপ সৃষ্টি করবেন না। কারন ভাল ফলাফল করলেই ভাল মানুষ হওয়া যায়না। সন্তানের ইচ্ছাকে গুরুত্ব দিন ।সারাদিনটা সন্তানদের লেখাপড়ার মধ্যে আটকে না রেখে খেলাধুলা করতে দিন, বিভিন্ন সামাজিক কর্মকান্ডে অংশগ্রহণ করতে সন্তানদের উৎসাহ প্রদান করুন। কোন এক সুধীজন বলেছিলেন, স্কুল, কলেজ কিংবা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্লাসরুমগুলো শিক্ষার্থীদের যা শেখায় তার চেয়ে বেশি কিছু শেখায় তার বাহিরের পরিবেশ।

 

 

মো. মাসুদ রানা

মো. মাসুদ রানা

[email protected]

লেখক: শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ