{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

২০০০ বিধি সংশোধন করে সদ্য জাতীয়করণকৃত পাস কোর্সের শিক্ষকদের আত্তীকরণ করুন

প্রকাশঃ বুধবার, ২২ নভেম্বর ২০১৭    ১১:২৮
নিত্যানন্দ হালদার

হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী স্বাধীনতার স্থপতি জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে সাড়া দিয়ে বাংলার অকুতোভয় মুক্তিপাগল বাঙ্গালী দীর্ঘ নয় মাস রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে অংশ গ্রহন করে বাংলাদেশ স্বাধীন করে। বঙ্গবন্ধুর মহতী উদ্যোগে যুদ্ধ বিধ্বস্ত সোনার বাংলায় সুযোগ্য সুশিক্ষিত সোনার মানুষ গড়ার লক্ষ্যে গ্রাম-গঞ্জের উচ্চ শিক্ষিত বিদ্যানুরাগী যুবকেরা নিজ নিজ থানায় স্কুল-কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দেশ গড়ার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করেন। ফলে ১৯৭২ সন থেকে ১৯৮১ সনের মধ্যে প্রত্যেক থানায় একাধিক কলেজ প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৯৮১ থেকে ১৯৯০ সনের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সবগুলো কলেজই ডিগ্রি কলেজে উন্নীত হয়। দেশের উচ্চ শিক্ষিত যুবকেরা আর্থিক দৈণ্যতার কারণে কলেজে প্রভাষক পদে যোগদান করে বিনা বেতনে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে দায়িত্ব পালন করতে থাকেন।

১৯৭৫ সন থেকে শিক্ষকগণ নির্ধারিত পে-স্কেলের ৫০% হারে প্রতি মাসে ১০০ টাকা বাড়ীভাড়া এবং ১৫০ টাকা হারে চিকিৎসা ভাতা পেতে শুরু করেন। তখনকার দিনে একজন এপিওভুক্ত প্রভাষক তিন মাস অন্তর সর্ব সাকুল্যে ১৮৭৫ টাকা বেতন ভাতা পেতেন। এত স্বল্প বেতন ভাতায় প্রত্যেক শিক্ষকেরই ‘নুন আনতে পান্তা ফুরায়’ অবস্থার মধ্যে দিয়ে দিন কাটাতে হয়েছে। কোনো কোনো শিক্ষক কলেজের বেতন বাকী থাকায় মহাজনের কাছ থেকে সুদে টাকা এনে সংসার চালাতেন। আবার অনেকে সম্পদ বিক্রি করেও সংসার চালিয়েছেন। এরপরও ভাল সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও কলেজ ছেড়ে অন্য চাকুরীতে চলে যাননি তারা।

প্রসঙ্গক্রমে উল্লেখ্য যে, সত্তর এবং আশির দশকে দরিদ্র থানার (বর্তমান উপজেলা) পল্লী এলাকায় উচ্চ শিক্ষিত বেকার লোক এতই দুষ্প্রাপ্য ছিল যে দুই চার দশ গ্রামে খুঁজেও একজন অনার্সসহ মাস্টারস ডিগ্রি তো দূরের কথা একজন পাশকোর্সসহ স্নাতক ডিগ্রিধারী বেকারও খুঁজে পাওয়া যেত না। দেশে উচ্চ শিক্ষিত লোকের যোগানের তুলনায় চাহিদা ছিল অনেক বেশী। অন্যদিকে চাহিদার তুলনায় যোগ্যতা ছিল কম। ফলে স্নাতকোত্তর পরীক্ষার ফল প্রকাশের পূর্বেই অনেকে সরকারী চাকুরীতে চলে যেতেন। এলাকায় (বিনা বেতনে যৎ সামান্য বেতনে) চাকুরী করে সংসার চালানো সম্ভব নয় ভেবে অনেকেই এলাকায় কলেজ প্রতিষ্ঠার কাজে আত্মনিয়োগ করতে আসতেন না। তখনকার দিনে ঢাকা, চট্টগ্রাম ও রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বড় বড় শহরে বৃটিশ আমলে গড়ে উঠা আট নয়টি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে হাতে গোনা কয়েকটি বিষয়ে সীমিত সংখ্যক আসনে অনার্স কোর্স পড়া যেত। ফলে মেধা ও যোগ্যতা থাকা সত্ত্বেও অনেক নিম্ন মধ্যবিত্ত ঘরের সন্তানেরা আর্থিক দৈণ্যতার কারণে অনার্স পড়ার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হতো। তখনকার দিনে অনার্সসহ মাস্টারস ডিগ্রি পাশ করার সথে সাথে অধিকাংশই বিভিন্ন চাকুরীতে যোগদান করতো। যারা শিক্ষকতা পছন্দ করতেন তারা উপজেলা পর্যায়ের কলেজে দু’চার বছর চাকুরী করার পর বি.সি.এস পরীক্ষায় পাশ করে সরকারী কলেজে চলে যেতেন অথবা শহরের এমন কোনো প্রতিষ্ঠিত কলেজে চলে যেতেন যেখানে বেতন ভাতা ও সুযোগ-সুবিধা সরকারী কলেজের চেয়ে কোন অংশেই কম নয়।

১৯৭২ থেকে ১৯৯০ সন পর্যন্ত উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে নিয়োগপ্রাপ্ত হয়ে টিকে থাকা শিক্ষকদের শতকরা আশি জনই হয় পাশ কোর্সসহ ২য় শ্রেণীর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী অথবা অনার্স থার্ড ক্লাশসহ ২য় শ্রেণীর স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী।বাকী শতকরা ২০ জন ছিল ২য় শ্রেণীর অনার্সসহ ২য় শ্রেণীর মাস্টারস ডিগ্রিধরী।

১৯৯০ সনের কাছাকাছি সময়ে দেশের মহকুমাগুলোকে জেলা করে, মহকুমা সদরের কলেজেগুলোতে অনেক বিষয়ে অনার্স কোর্স খোলার অনুমতি দেয়া হয়। এমনকি ২০০০ সনের পর অনেক উপজেলা পর্যায়ের কলেজেও অনার্স কোর্স খোলার অনুমতি দেয়া হয়। অন্যদিকে দেশের বড় বড় শহরের শতাধিক বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয় চালু করে অনার্স কোর্স খোলার অনুমতি দেয়া হয়। ফলে ২০১০ সনের মধ্যে দেশে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী উচ্চ শিক্ষিতের সংখ্যা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পায়।

সত্তর এবং আশির দশকে নিয়োগ প্রাপ্ত পাশকোর্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রীধারী শিক্ষকদের অধিকাংশই ২০১৫ সনের মধ্যে অবসরে চলে যান। বেসরকারী শিক্ষকদের বেতনের সরকারী অংশ ১০০% এ উন্নীত হবার কারণে এবং অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রিধারীর সংখ্যা বৃদ্ধির কারণে উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকের যোগদানের হার ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পেতে থাকে। বর্তমানে উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে গড়ে ৭৫%ই অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং বাকী ২৫% পাস কোর্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী। এই ২৫% শিক্ষকও আগামী দশ বারো বছরের মধ্যে প্রায় সকলেই অবসরে চলে যাবেন।

১৯৮২ থেকে ১৯৯০ সন পর্যন্ত ৯ বছরের মধ্যে উপজেলা পর্যায়ে কিছু সংখ্যক কলেজ সরকারীকরণ করা হয় এবং এসব কলেজের সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষককে এমনকি (স্নাতকোত্তর থার্ডক্লাশ ডিগ্রিধারীদের) মানবিক কারণে উদার চিত্তে ১৯৮১ সনের আত্মীকরণ বিধির আওতায় আত্মীকরণকৃত করা হয়েছে। অনার্স পাশকোর্স নির্বিশেষ সকল শিক্ষক আত্মীকরণের সুযোগ পেয়ে তাদের অনেকে অধ্যাপক, উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ পদে পদোন্নতি লাভের পর অবসরে গিয়েছেন। কলেজ প্রতিষ্ঠালগ্নে বিনাবেতনে অক্লান্ত পরিশ্রম করলেও ১৯৮১ সনের আত্মীকরণ বিধির আওতায় আত্মীকরণকৃত হয়ে শেষ জীবনে সকৃতজ্ঞচিত্তে হাসিমুখে বিদায় নিতে পেরেছেন।

ঐ সময়ে যেসব উপজেলায় জাতীয় পার্টির এমপি কিংবা বিশিষ্ট নেতা কর্মী ছিলো না সেসব উপজেলা সদরের কলেজগুলো সরকারীকরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছে।বর্তমানে আওয়ামীলীগ সরকারের শাসনামলে প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার মহৎ উদ্যোগে প্রত্যেক উপজেলায় একটি করে কলেজ সরকারীকরণের কার্যকরী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন।

বর্তমান সরকার ক্ষমতায় এসে ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত ৪৬টি কলেজ জাতীয়করণ করেছে। আরো ২৮৫টি কলেজ জাতীয়করণের চুড়ান্ত পর্যায়ে। সামনে হয়ত গোটা শিক্ষা ব্যবস্থাই জাতীয়করণ করা হবে। এটি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার যুগোপযোগী সিদ্ধান্ত। যা প্রশংসার দাবিদার। বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণের কারণে সমস্ত দেশটাই সরকারি কার্যক্রমের আওতায় আসবে। তখন দেশ হবে আরো কর্মমূখী ও গতিশীল। যা উপজেলা কনসেপ্টকেও হার মানায়। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জাতীয়করণ হওয়া ৪৬টি কলেজের শিক্ষকদের তথাকথিত ২০০০ বিধিতে ক্যাডারভূক্তির সিদ্ধান্ত হওয়ায়, কাম্য যোগ্যতা নাই নামে কিছু শিক্ষককে চিহ্নিত করে আত্মীকরণ হতে বঞ্চিত করার সিদ্ধান্ত সদ্য জাতীয়করণকৃত শিক্ষক ও শিক্ষক পরিবারের মধ্যে হতাশা নেমে এসেছে। সরকারি বিধিবদ্ধভাবে বৈধ নিয়োগপ্রাপ্ত এই সমস্ত শিক্ষক ও অশিক্ষকদের পরিকল্পিতভাবে সমাজের সামনে হেয় করার জন্যই এটা করা হয়েছে।

১৯৮১ ও ১৯৯৮ সালের বিধিমালাতে নিয়োগপ্রাপ্ত সকল শিক্ষক আত্মীকৃত হয়েছেন।কিন্ত ২০০০ বিধিতে আত্মীকৃত শিক্ষকদের চরম হেয় করা হলো। কিন্ত কি কারণে এমন করা হলো? ২০০০ সালের বিধির মাধ্যমে কি নীতি নির্ধারকরা প্রমাণ করতে চেয়েছেন দেশে শিক্ষা ব্যবস্থায় রেনেসাঁর উদ্ভব ঘটানো সম্ভব। নাকি শিক্ষা ব্যবস্থায় শিক্ষক নামের সম্মাণকে স্ত্রী-সন্তান ও সমাজের সামনে চির হেয় করার সুদৃঢ় ব্যবস্থা। কেনো আত্মীকরণ সুদ্ধির নামে মানুষের আত্মসম্মাণ নিয়ে খেলা করা হচ্ছে।২০০০ বিধি ২০০৯ সাল থেকে এ পর্যন্ত জাতীয়করণকৃত ৪৬ কলেজের প্রায় ২০০ শিক্ষক ও অশিক্ষককে আত্মীকরণের বাহিরে রেখে এবং বেশ কিছু অশিক্ষককে পদোবনতি করে বাংলাদেশকে কি দিলো? বাংলাদেশে প্রতি বছর লক্ষ্য লক্ষ্য ছাত্র-ছাত্রী এসএসসি ও এইচএসসি পাস করছে কিন্ত তাদের বেসিক কি বা মান-সম্মত মেধা কি তৈরী হচ্ছে। সে মূল্যায়ণ কি খুবই সুখকর? নিশ্চয়ই না! তাহলে যে বিধি রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম বাস্তবায়নে প্রশ্নবিদ্ধ করে বা যেটার কোন আইনগত ভিত্তি নাই এবং যা শুধুই বিসিএস শিক্ষা সমিতির স্বার্থ রক্ষার ঢাল হিসেবে ভূমিকা রেখে চলেছে তা এই মুহুর্তেই রহিত করে যুগোপযোগী বিধির মাধ্যমে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সর্বগ্রহণযোগ্য ’বেসরকারি কলেজ জাতীয়করণ’ কর্মসূচীকে এগিয়ে নিযে যাওযাটাই যুক্তিযুক্ত।

যে সকল শিক্ষক আশি এবং নব্বই এর দশকে যখন উপজেলা পর্যায়ের কলেজ গুলোতে আর্থিক দৈণ্যদশার কারণে মাসের পর মাস প্রতিষ্ঠানের নিকট শিক্ষকদের পাওনা বেতনের অংশ বাকী পড়ে যেত, শুধুমাত্র তিন মাস অন্তর প্রাপ্ত সরকার প্রদেয় বেতনের অংশের উপর নির্ভর করে কোন রকমে সংসার চালাতে হতো, অনার্স এবং মাস্টার্স ডিগ্রিতে ২য় শ্রেণীসহ উত্তীর্ণ শিক্ষকদের মধ্যে অনেকেই দারিদ্রের কষাঘাত সহ্য করতে না পেরে বিতৃষ্ণ হয়ে কলেজের চাকুরী ছেড়ে দিয়ে অন্য পেশায় পেশান্তরিত হতো, যার ফলে শিক্ষকের অভাবে অনেক বিষয়েই শ্রেণী কক্ষে নিয়মিত পাঠদান করা সম্ভব হতো না; বেসরকারী কলেজগুলোর সেই ভয়াবহ দুর্দিনে শুধুমাত্র পাশকোর্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রিধারী এবং ৩য় শ্রেণীতে অনার্সসহ ২য় শ্রেণীতে মাস্টার্স ডিগ্রিধারী শিক্ষকেরা শ্রেণীকক্ষে একাধিক বিষয়ে ক্লাশ নিয়ে কলেজগুলোকে সচল ও প্রাণবন্ত রেখেছেন।

অত্যন্ত পরিতাপের বিষয় যে আত্মীকরণ বিধি সংস্কারের নামে ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধিতে সেই সকল এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি না থাকায় আত্মীকরণের দোরগোড়া থেকে গলাধাক্কা দিয়ে তাড়িয়ে দেবার জন্য নতুন এক মাপকাঠি নির্ধারণ করা হয়েছে। এরূপ আত্মীকরণ বিধি নিঃসন্দেহে বৈষম্যমূলক, বিভেদ ও শ্রেণীসংঘাত সৃষ্টিকারী, অকৃতজ্ঞতায় ভরপুর, জাতীয় সংবিধান ও জাতিসংঘ সনদে সংরক্ষিত মৌলিক মানবাধিকারের পরিপন্থী। যে সকল নিবেদিত প্রাণ স্নাতকোত্তর শিক্ষক প্রিলিমিনারী পাশের পর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই মানের অভিন্ন প্রশ্নপত্রে মাস্টার্স ডিগ্রি শেষ পর্বের পরীক্ষায় অনার্স গ্রাজুয়েটদের সঙ্গে একসাথে পরীক্ষা দিয়ে ২য় শ্রেণীতে স্নাতকোত্তর পাশ করেছে তারাও ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধির প্রবঞ্চনা থেকে অব্যাহতি পাচ্ছেন না। যে সকল মহৎ প্রাণ ত্যাগী শিক্ষক জাতি ও সমাজের বুকে শিক্ষাসেবা দানের আজীবন আত্মপ্রত্যয় নিয়ে শিক্ষকতা পেশায় যোগদান করে নিজের জীবন যৌবনের সমুদয় শক্তি সামর্থ ও মেধা বিনিয়োগ করে সারা জীবন অস্বচ্ছলতার মধ্যে কাটিয়ে আজ বার্ধক্যের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছিয়ে অবসর গ্রহণের অপেক্ষায় দিনক্ষণ গুণছে, একাধিকবার বিকল্প পেশায় কর্মসংস্থানের সুযোগ পাওয়া সত্ত্বেও শিক্ষকতা পেশার আকর্ষণে কলেজের মায়ায় পড়ে অন্য পেশায় পেশান্তরিত হননি, বিগত তিন দশক যাবৎ এমপিওভুক্ত শিক্ষক হিসেবে দেশের অভিন্ন কারিকুলাম অনুযায়ী সাফল্যের সাথে শ্রেণীকক্ষে পাঠদান করে আসছেন; বোর্ড ও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষক হিসাবে (কোন কোন বছর প্রধান পরীক্ষক হিসেবে) নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করে চলছেন; কেউ কেউ কলেজের উপাধ্যক্ষ ও অধ্যক্ষ হিসাবেও দায়িত্ব পালন করছেন। প্রায় তিন দশক যাবৎ কর্মক্ষেত্রে যোগ্যতার প্রমাণ বহন করা সত্ত্বেও তাদের যদি জীবনসায়াহ্নে ২০০০ সনের আত্তীকরণ বিধির বৈষম্যের যাতাকলে আত্তীকরণের অযোগ্য বিবেচিত হয়ে লাঞ্ছিত, বঞ্চিত, প্রতারিত, অপমানিত, হতাশাগ্রস্থ অবস্থায় চাকুরী থেকে অবসরে যেতে হয় তবে এটা অনেকের কাছে সংস্কারমূলক আত্মীকরণ বিধি বলে গণ্য হলেও ক্ষতিগ্রস্ত শিক্ষকদের কাছে প্রতারণামূলক কালাকানুনের কালোথাবা হিসেবেই গণ্য হবে। যে সকল শিক্ষক সুদীর্ঘ কর্মজীবনে হাজার হাজার শিক্ষার্থীকে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষা দিয়ে এইচ.এস.সি পাশ করিয়ে অনার্স পড়ার যোগ্য করে তুলেছিল আজ যদি সেই সকল শিক্ষার্থী অনার্সসহ মাস্টার্স ডিগ্রি নিয়ে কলেজের প্রভাষক পদে যোগদান করে।

২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধির সূত্র ধরে অকৃতজ্ঞের ন্যায় আপন শিক্ষককে আত্মীকরণের অযোগ্য শিক্ষক বলে টিপুনীকাটে তাহলে ২০০০ সনের আত্তীকরণ বিধিকে আমরা কি ধরনের সংস্কার বিধি বলে অভিহিত করবো? হাতে গোণা কয়েকটি কলেজ ব্যতীত উপজেলা পর্যায়ের প্রায় সবগুলো সরকারী কলেজে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাত্তক (পাশ) শ্রেনীর শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হয়। বিগত দুই তিন দশক যাবৎ সাফল্যের সাথে পাঠদান করা সত্ত্বেও সরকারীকরণ করার পর ঐ সকল কলেজে তারা আত্মীকরণকৃত শিক্ষক হিসেবে পাঠদানের অযোগ্য বিবেচিত হবেন কোন যুক্তিতে? ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধির প্রণেতাদের কাছে আমাদের নিবেদন কলেজ শিক্ষকদের আত্তীকরণের যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্য শুধুমাত্র শিক্ষকের শিক্ষাজীবনে অর্জিত সনদ পত্রের উপর নির্ভির না করে অনুগ্রহপূর্বক রাজধানীর এসি সমৃদ্ধ বিলাসবহুল অট্টালিকা ছেড়ে কিছুদিনের জন্য বাস্তব কর্মক্ষেত্রে অর্থাৎ উপজেলা পর্যায়ের কলেজগুলোতে এসে সরাসরি শিক্ষকদের পাঠদানের দক্ষতা, বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান ও শিক্ষাদানের অভিজ্ঞতা, বিগত বছরগুলোতে উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাত্তক চুড়ান্ত পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের প্রত্যেক বিষয় ভিত্তিক অর্জিত ফলাফল নিরীক্ষণ যাচাই ও পর্যালোচনা করে বির্ধারণ করুন, কোন শিক্ষক আত্মীকরণের যোগ্য কি অযোগ্য?

বাংলাদেশে জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পূর্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত সকল বিশ্ববিদ্যালয় কলেজের অনার্স পাশ এবং স্নাতকোত্তর প্রিলিমিনারী পাশ শিক্ষার্থীদের একসাথে একই কারিকুলাম ও সিলেবাস অনুযায়ী স্নাতকোত্তর শেষ পর্বের ক্লাশ হতো, একই সাথে একই প্রশ্নপত্রের মাধ্যমে পরীক্ষা নেয়া হতো এবং পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হতো। ফলাফলে দেখা যেত অনেক অনার্স গ্রাজুয়েট ৩য় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে কিন্তু অনেক (পাশ কোর্সের গ্রাজুয়েট) প্রিলিমিনারী ও শেষ পর্বের পরীক্ষায় সেকেন্ড ক্লাশ পেয়ে উত্তীর্ণ হয়েছে।

২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধিতে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে একই সময়ের প্রিলিমিনারী এবং শেষ পর্বের (উভয় পরীক্ষায়) সেকেন্ড ক্লাশ পেয়ে উত্তীর্ণ একজন শিক্ষককে আত্মীয়করণের অযোগ্য হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে।অথচ স্নাতক অনার্সসহ স্নাতকোত্তর শ্রেণীতে ২য় শ্রেণীতে উত্তীর্ণ একজন শিক্ষককে আত্মীকরণে যোগ্য হিসেবে ধরে নেয়া হয়েছে। কিন্তু প্রিলিমিনারী পরীক্ষার ফলাফলকে অনার্স ফাইনাল পরীক্ষার ফলাফলের অনুরূপ সমমান ধরে নিলে ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধি পক্ষপাত দোষে ত্রুটিযুক্ত হতো না। যে শিক্ষক শিক্ষকতাকে ব্রত হিসেবে বেছে নিয়ে এলাকায় কলেজ প্রতিষ্ঠা করে শিক্ষকও সভ্যতার আলো থেকে বঞ্চিত অন্ধকারাচ্ছন্ন নিভৃত পল্লী সমাজে উচ্চ শিক্ষায় শিক্ষিত আলোকিত মানুষ গড়ে তুললো ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধির মাপকাঠিতে আজ সে অযোগ্য ঘোষিত হলো।

১৯৮১ সনের আত্মীকরণ বিধির সাথে বিধি সংস্কারের নামে প্রণীত ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধির তুলনা করলে দেখা যায় ১৯৮১ সনের আত্মীকরণ বিধি অত্যন্ত বাস্তবধর্মী, নিরপেক্ষ, বৈষম্যহীন, কৃতজ্ঞতা সম্পন্ন, উদার নৈতিক মানবতাবাদী কিন্তু ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধি বাহুল্যংশেই অবাস্তব, বৈষম্যমুলক, সংকীর্ণ, পক্ষতাযুক্ত শুধুমাত্র সনদ নির্ভর, অমানবিক, অকৃতজ্ঞতাপূর্ণ ও অভিশপ্ত। একজন অগণতান্ত্রিক সামরিক শাসকের শাসনামলে প্রণীত আত্মীয়করণ বিধি যদি উদার নৈতিক ও মানবতাবাদী হয় তবে গণতান্ত্রিক সরকারের শাসনামলে প্রনীত আত্মীকরণ বিধি উহার চেয়ে আরো বেশী উদার নৈতিক ও মানবধর্মী হওয়া যুক্তিসঙ্গত।

নিরপেক্ষ দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধি বিচার বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় ২০০০ সনের পূর্বে (আশি ও নব্বইয়ের দশকে) নিয়োগপ্রাপ্ত এমপিওভুক্ত কলেজ শিক্ষকদের শুধুমাত্র অনার্স না থাকায় কিংবা অনার্সে সেকেন্ড ক্লাশ না পাওয়ার অজুহাতে (তাদের বিষয় ভিত্তিক জ্ঞান চাকুরীর অভিজ্ঞতা, বিষয়ত্তিক পরীক্ষার ফলাফল এবং কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনায় তাদের অমূল্য অবদানের কথা বিবেচনায় না এনে) তাদের আত্মীকরণের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করাটা তাদের প্রতি উক্ত বিধির প্রণেতাদের ক্ষমতার অপব্যবহার প্রদর্শনের শামিল। উক্ত বিধির প্রনেতাগণ বিধি সংস্কারের নামে ক্ষমতার অপব্যবহার করে তাদের কলমের আঁচড়ে শত শত নিবেদিত প্রাণ সুযোগ্য শিক্ষককে লাঞ্ছিত ,বঞ্চিত ,অপমানিত, হতাশ, দুশ্চিন্তাগ্রস্থ ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ করেছেন। তাদের বৈষম্যমূলক দৃষ্টিভাঙ্গীর কষাঘাতে আজ শত শত কলেজ শিক্ষক মজলুম (অত্যাচিরত) বনে গেছেন।

কাম্য যোগ্যতার প্রহসন (১) যে সব শিক্ষকদের পাস কোর্স ও অনার্সে ৩য় বিভাগ আছে। সে সমস্ত শিক্ষকদের মাস্টার্সে ১ম বিভাগ না থাকলে ২০০০ বিধি অনুযায়ী নিয়োগের কোন সুযোগ নাই। (২) অশিক্ষক বলতে যা ডেমোন্সট্রেটর ও লাইব্রেরিয়ান তাদের বিএসসিতে ২য় বিভাগ এবং লাইব্রেরী সায়েন্সে ডিপ্লোমায় ২য় বিভাগ না থাকলে পদোবনতি করা হবে। (৩) পরিদর্শনের সময় মানোন্নয়ন না থাকলে পরবর্তীতে কারো মানোন্নয়ন গ্রহনযোগ্য হবে না। (৪) ২০০০ বিধি অনুযায়ী মানোন্নয়নের কোন সুযোগ নাই। (৫) সচিব বা ডিজির অনুমোদন ছাড়া মানোন্নয়ন গ্রহণযোগ্য না। (৬) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষেও (কলেজ গভর্ণিং বডি যা ডিজির প্রতিনিধি) মানোন্নয়ন গ্রহনযোগ্য নহে। (৭) আদালত কর্তৃক অনুমোদন সাপেক্ষে মানোন্নয়ন গ্রহনযোগ্য। এই প্রহসনের জবাব কি তা নিম্নের উপযুক্ত প্রমাণের আলোকে আপনারাই ভাবুন। শেখ মজিবুর রহমান কলেজ, টুঙ্গিপাড়া, গোপালগঞ্জের ১১ জন শিক্ষককের কাম্য যোগ্যতা না থাকায় ৩ বছরের কাম্য যোগ্যতা অর্জনের মাধ্যমে সরকার অনুমোদিত যেকোন বিশ্ববিদ্যালয় হতে মানোন্নয়ন সাপেক্ষে আত্মীকরণের সিদ্ধান্ত দেয়া হয় যার স্মারক নং- শিম/শাঃ ৮/৪-৩/৯৯(অংশ-১)/১১২৯ তারিখ ২৩ জুলাই ২০১৩ খ্রিঃ। সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ নূর মোহাম্মদ ডিগ্রি কলেজ, শার্শা, যশোরের বিভিন্ন বিষয়ে বেসরকারি আমলে কর্মরত ৭ জন শিক্ষকের পরিদর্শনের সময়ে শিক্ষাগত যোগ্যতা ছিল না কিন্ত স্মারক নং-ওএম/২৭সি-১/২০১০/৪২৭৬ /সি-১ তারিখ¬-২৪শে মার্চ, ২০১৪ অর্ডারে মানোন্নয়নের মাধ্যমে এ্যাডহক নিয়োগ সম্পন্ন করা হয়। সরকারি বীরশ্রেষ্ঠ আব্দুর রউফ ডিগ্রি কলেজের যাদের যোগ্যতার অভাব আছে তাদের তিন বছরের মধ্যে যোগ্যতা অর্জনের শর্ত দিয়ে জনপ্রশাসন কর্তৃক (শর্ত সমূহ ৪নং দ্রষ্টব্য) পদ সৃজন সম্পন্ন হয়। স্মারক নং-৩৭০০০০০০৬৯১১০০১১২-১১৫০ তারিখঃ ১৯/৬/২০১২খ্রিঃ। আদালত কর্তৃক অর্ডারের প্রেক্ষিতে ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুর উপজেলাধীন মহেশপুর ডিগ্রি কলেজের পাঁচ জনকে মানোন্নয়ন সাপেক্ষে নিযোগ দেয়া হয়। স্মারক নং- ৩৭০০০০০০০০৬৯১৫০৬০১৬-৮৭২। মেহেরপুর জেলার মুজিব নগর সরকারি ডিগ্রি কলেজের বেসরকারি আমলের নিয়োগপ্রাপ্ত একজন সহকারি অধ্যাপককে চিঠির মাধ্যমে জানানো হয় ২০০০ বিধিতে মানোন্নয়নের কোন সুযোগ নাই। স্মারক নং ওএম/৯৩সি-১/২০০৯/৪৪৬৭/২ /সি১ তারিখঃ ০৪/০৬/২০১৫। সরকারি নগরকান্দা কলেজের অর্থনীতির প্রভাষক আঞ্জুমানারা বেগমকে মানোন্নয়ন সাপেক্ষে আত্মীকরণের লক্ষে মাওশি সুপারিশ করে গত ০৩/১১/২০১৬ইং তারিখ মন্ত্রণালয়ে প্রেরণ করলেও তার নিয়োগ সম্পন্ন হয়নি। এছাড়াও শুনা যায় অনেক কলেজের শিক্ষককে মানোন্নয়ন সাপেক্ষে হয়রানিমূলক মাওশি কর্তৃক সুপারিশ করা হচ্ছে কিন্ত তাদের পদসৃজন করা হচ্ছে না। সরকারি কলেজের প্রদর্শকবৃন্দ যখন প্র্রভাষকের কাম্যযোগ্যতা অর্জন করে তখন বিসিএস পরীক্ষা ছাড়াই প্রভাষক পদে অধিষ্ঠিত হয় (প্রমাণ সাপেক্ষে)। চরম আন্দোলনের মাধ্যমে ১৮টি মহিলা কলেজে ১৭৬জন শিক্ষক ও অশিক্ষককে প্রোমার্জনের আত্তীকরণ করা হয়। ২০০০ বিধির এ গ্যাড়াকলে পড়ে কয়েক হাজার শিক্ষকের জীবনে নেমে এসেছে ঘোর অমানিশা।

জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান দীর্ঘদিনের লালিত স্বপ্নের সোনার বাংলায় সোনার মানুষ গড়ে তোলার লক্ষ্যে শিক্ষা জাতীয়করণের প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে দেশের প্রাইমারী শিক্ষাকে জাতীয়করণ করেন এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকতা পেশায় কর্মরত কম বেশী শিক্ষাগত যোগ্যতাসম্পন্ন সকল শিক্ষকের চাকুরী সরকারীকরণ করে এক ঐতিহাসিক বিরল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। সত্তর এর দশকে কর্মরত প্রাইমারী শিক্ষকদের মধ্যে কেহ কেহ ব্রিটিশ শাসনামলে মাত্র অষ্টম শ্রেণী পাশ, কেহ কেহ পাকিস্তানী শাসনামলে মাধ্যমিক (এস,এস,সি) পাশ আবার কেহ কেহ ১৯৭২-৭৩ সনের উচ্চ মাধ্যমিক ও স্নাতকপাশ শিক্ষক ছিলেন। প্রাইমারী শিক্ষকদের আত্মীকরণের প্রাক্কালে তাদের শিক্ষাগত যোগ্যতার তারতম্য ধরে তাদের মধ্যে শ্রেনী বৈষম্য সৃষ্টি না করে সকল শিক্ষকের শ্রম ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ণ করে সকলের চাকুরীকেই উদারচিত্তে নির্দিষ্ট পে-স্কেলের আওতায় অন্তর্ভূক্ত করে নিয়েছেন। জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও তার সুযোগ্য পিতার পদ অনুসরণ করে শিক্ষা জাতীয়করণের লক্ষ্যে সীমিত সময়ের মধ্যেই দেশের কয়েকশ বেসরকারী কলেজ সরকারীকরণ করেছেন। এছাড়া প্রতিটি উপজেলায় অন্তত ১টি করে হাইস্কুল সরকারীকরণের প্রক্রিয়া চলছে। জনদরদী শিক্ষা বান্ধব জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট ভূক্তভোগী কলেজ শিক্ষকদের আকুল আবেদন তিনিও যেন তার পিতার ন্যায় (শিক্ষা জীবনে অর্জিত সনদের উপর ভিত্তি করে শিক্ষকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টি না করে) উদার চিত্তে সকল এমপিওভূক্ত শিক্ষকদের আত্মীকরণকৃত হবার সুযোগ দান করে ২০০০ সনে প্রনীত কলেজ শিক্ষক আত্মীকরণ বিধির বৈষম্যের যাতাকল থেকে অসহায শিক্ষকদের মুক্তি দান করবেন।

পরিশেষে হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী, ৩য় বিশ্বের বঞ্চিত, অবহেলিত ও শোষিত শ্রমজীবি মেহনতী মানুষের প্রতিবাদী কন্ঠস্বর জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সুযোগ্য কন্যা মাদার অব হিউম্যানিটি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার নিকট বঞ্চিত অসহায় ভূক্তভোগী শিক্ষকদের আকুল আবেদন ২০০০ সনের পূর্বে এমপিওভূক্ত সকল শিক্ষককে আত্মীকরণকৃত হবার সুযোগদানের লক্ষ্যে ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধি বাতিল করে অথবা ২০১৭ সনে আত্মীকরণ বিধি প্রনয়ণের মহতী উদ্যোগ গ্রহন করে বৈষম্যের কষাঘাতে জর্জরিত হতাশাগ্রস্থ অসহায় শিক্ষকদের ২০০০ সনের আত্মীকরণ বিধির অভিশাপ থেকে মুক্ত করে সদ্য জাতীয়করণকৃত সকল পাশ কোর্স এবং অনার্স তৃতীয় শ্রেনীতে উত্তীর্ণ সকল শিক্ষকদের আত্তীকরণ করে হাজার বছর বেঁচে থাকবেন অবহেলিত শিক্ষক পরিবারের হৃদ মন্দিরে এটাই অবহেলিত পাস কোর্সধারী শিক্ষকদের প্রাণের দাবী।

নিত্যানন্দ হালদার

নিত্যানন্দ হালদার

 cÖfvlK, iv‰Ri wWwMÖ K‡iR

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ