আসলে জিয়ার পরিচয় কী?

প্রকাশঃ শনিবার, ২৩ ডিসেম্বর ২০১৭    ২১:৫৬
14

মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে আয়োজিত মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশে আগামীকাল প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। খালেদা থেকে 'আতি-পাতি' সব নেতাই মাইক কিন্তু ফাটিয়ে ফেলবে একটি 'শব্দ' নিয়ে। যে শব্দটি শুধু কথায় আর গরম গরম বক্তৃতায় আছে। কিন্তু নেই কাগজে-কলমে। কিংবা স্বীকৃতিও দেন না জাতীয় ইস্যুর কোনো ডুকোমেন্টে। এ কেমন আজব দল! এ কেমন রাজনৈতিক চরিত্র!

সে শব্দটি বলার আগে একজন মহান ব্যাক্তির নাম বলি। যার নামটি যেন একটি বাংলাদেশ। তিনি হলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি লেফটেন্যান্ট জেনারেল মেজর জিয়াউর রহমান। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী যখন পূর্ব পাকিস্তানের নিরস্ত্র বাঙালীদের ওপর বর্বর ঘৃণ্য হামলা চালায়। সে রাতে পশ্চিম পাকিস্তানী হানাদার বাহিনীর হাতে জনপ্রিয় বাঙালি নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমান বন্দী হন। মার্চ এর ২৬ তারিখ দিনের প্রথম প্রহরে পাকিস্তান সেনাবাহিনী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেফতার করে। কঠিন সংকাটাপন্নে পড়ে বাংলাদেশ। ঠিক তখনি সঙ্কটময় মুহূর্তে ১৯৭১ সালের ২৬শে মার্চ পশ্চিম পাকিস্তানী বাহিনীর বর্বর আক্রমণের পর লেফটেন্যান্ট জেনারেল মেজর জিয়াউর রহমান পাকিস্তান সেনাবাহিনীর সাথে সম্পর্ক ত্যাগ করে বিদ্রোহ করেন এবং ২৬শে মার্চ সন্ধ্যা ৭টায় মেজর জিয়াউর রহমান চট্টগ্রামের কালুরঘাট বেতার কেন্দ্র থেকে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষণা পত্র পাঠ করেন। এর কয়েক বছর পর সর্বশক্তিমান আল্লাহ্‌র উপর বিশ্বাস জাতীয়তাবাদ গণতন্ত্র সমাজতন্ত্র আদর্শের উপর ভিত্তি করে গঠন করেন  বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) নামক একটি রাজনৈতিকদল। সে থেকেই দলটি জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক হিসেবেও দাবী করেন। তবে এই দাবীটি মাইক্রোফোন পর্যন্ত সীমাবদ্ধ,  কাগজে কলমে ব্যাবহার করতে নারাজ!

সম্প্রতি বিএনপি নামক দলটির এমন আচরণ আবারো দেখা গেলো। দুর্নীতি নিয়ে ‘অসত্য’ বক্তব্য রাখার অভিযোগ এনে গত ১৯ ডিসেম্বর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে উকিল নোটিশ পাঠিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া। এর একদিন পর ২০ডিসেম্বর নয়াপল্টনে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম, আইনজীবী ব্যারিস্টার মাহবুবউদ্দিন খোকনের মাধ্যমে ডাক যোগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠানো নোটিশটি সাংবাদিকদের ডেকে পাঠ করেন। উকিল নোটিশে জিয়াউর রহমানের পরিচয় দিতে গিয়ে লিখেন..." তাঁর প্রয়াত স্বামী শহীদ জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) ছিলেন বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি এবং বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামে একজন সেক্টর কমান্ডার। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে তার অবদানের স্বীকৃতি স্বরূপ তাকে "বীর উত্তম" উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

এখানে জিয়ার পরিচয় দিতে গিয়ে সেক্টর কমান্ডার, রাষ্ট্রপতি ও "বীর উত্তম" উপাধিকে তুলে ধরা হয়েছে। কিন্তু যেটি নিয়ে এত আলোচনা " স্বাধীনতার ঘোষক" এ শব্দটা একবার ও উল্লেখ করেনি। হতে পারে এটি দলীয় পলিসি। ঠিক একই দিনই দেখা গেলো দলের শীর্ষ ব্যাক্তিদের ডিগবাজি সূর! বিকেলে মহানগর নাট্যমঞ্চে বিজয় দিবসের আলোচনা সভায় দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য খোন্দকার মোশাররফ হোসেন, মঈন খান, মির্জা আব্বাসহ শীর্ষ নেতারা বক্তব্যর প্রারম্ভে ঠিকই জিয়াউর রহমানকে স্বাধীনতার ঘোষক সম্বোধন করে বক্তব্য শুরু করেন। সেখানে আর "বীর উত্তম", "সেক্টর কমান্ডার" বলা হয় না। হয়তো আগামীকালের মুক্তিযোদ্ধা সমাবেশেও এমন হট বক্তব্যর কেন্দ্র থাকবে জিয়াই "স্বাধীনতার ঘোষক"।

বিএনপি নামক এমন একটি রাজনৈতিক দল যারা নিজেদের বৃহত্তম দাবী করে। অথচ একটি শব্দের স্বীকৃতির জন্য দলিল হিসেবে লিখনিতে ব্যাবহারে সাহস রাখেন না। হিম্মতে তখন তাদের মরিচায় ধরে। সেখানে হিসেব আসে নানা সমিকরণের। এখন সাধারণ মানুষ ও নেতাকর্মীদের শুধু "ঘোষক"  "ঘোষক" বলে বিরক্ত না দেয়াই উত্তম হবে দলটির। তাই আবারও বলবো যেটি লিখতে সমস্যা সেটি না বলাই কি উচিৎ নয় ?