{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

কোনো সংকটের কারণে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এমন যুক্তি গ্রহণ করছি না

প্রকাশঃ শনিবার, ১৩ জানুয়ারী ২০১৮    ২২:০৬
অনলাইন ডেস্ক নিউজ

এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো সংকটের কারণে বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা হয়েছে এমন যুক্তি গ্রহণ করছি না বরং মূল রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে আড়াল করতেই মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন করা হয়েছে। তবে এটি গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় নয়। রেডিও তেহরানকে দেয়া সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।

তিনি আরো বলেন, বাংলাদেশের আগামী নির্বাচনের বছর খানেক আগে কিছুটা পরিবর্তন এনে মানুষের মনোযোগকে ভিন্ন জায়গায় প্রবাহিত করার এটা একটা কৌশলমাত্র। আগামী কয়েক মাসে এ ধরনের নতুন কোনো চমক দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ ও উপস্থাপনা করেছেন গাজী আবদুর রশীদ।

রেডিও তেহরান:  বাংলাদেশের মন্ত্রিসভায় নতুন চারজন সদস্য নেয়া হয়েছে এবং আটজন মন্ত্রীর দপ্তর পুনর্বন্টন করা হয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে- সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে কেন এই পরিবর্তনের প্রয়োজন হলো?

সাইফুল হক: দেখুন, সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে মন্ত্রিসভায় যে পরিবর্তন হয়েছে সেটা আমার কাছে খুব একটা গুরুত্বপূর্ণ কোনো বিষয় বলে মনে হয় নি। তারপরও এই পরিবর্তনের মধ্যে নিশ্চয়ই কোনো একটা গুরুত্বের জায়গা রয়েছে। বিশেষ করে আমি বলতে চাচ্ছি- আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে যেসব নির্বাচনী এলাকাকে গুরুত্ব দেয়া দরকার বা সরকারি দলের উইকনেস আছে বলে সরকার মনে করছে সেসব অঞ্চলকে ভিন্নভাবে দেখা হচ্ছে। যেমন ধরুন লক্ষ্মীপুর, রাজবাড়ী-এসব অঞ্চলের জনগণকে কিছুটা আশ্বস্ত করার কথা ভেবেছে সরকার। আর এটি এসেছে ভোটের সমীকরণের জায়গা থেকে। আর পরিবর্তন যেটা হয়েছে-সেটা মূলত সরকারি দল আওয়ামী লীগের জোটসঙ্গীদের মন্ত্রণালয়ের ক্ষেত্রে হয়েছে।

রেডিও তেহরান:  এ পরিবর্তনে কতটা ইতিবাচক ফলাফল বয়ে আনবে বলে আশা করা যায়?

সাইফুল হক: না, দেখুন এই পরিবর্তনকে আমি তেমন কোনো তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করি না। তবে আমার মনে হয়েছে সরকারের হিসাবে তারা মনে করতে পারে হাওড় অঞ্চল খুব বড় একটা বিষয়। আর ওই অঞ্চলের লোকেরা একজন টেকনোক্রাট মন্ত্রী পেয়েছেন। যাকে টেকনোক্র্যাট মন্ত্রী হিসেবে নেয়া হয়েছে তাকে ওই অঞ্চলের মানুষ পছন্দ করেন। এখানে মানুষের আবেগ বা অনুভূতিকে বিবেচনায় নিয়ে হয়তো তাকে মন্ত্রী করা হয়েছে। আর লক্ষ্মীপুরে যাকে মন্ত্রী করা হয়েছে উনি তো ওই অঞ্চলের সরকারি দলের একজন মাসলম্যান হিসেবে পরিচিত। তাকেও সরকার নানা বিবেচনায় মন্ত্রিসভায় এনেছে। সরকারি সংস্থাগুলো বা সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর ভোটসহ নানা হিসাব-নিকাষের ভিত্তিতে এসব করা হয়েছে। আর সামগ্রিকভাবে আমাদের ম্যাক্রো অর্থনীতির ক্ষেত্রে বা রাষ্ট্র এবং রাজনীতির ক্ষেত্রে এগুলো খুব একটা তাৎপর্যপূর্ণ ফলাফল বয়ে আনবে না।

রেডিও তেহরান:  অনেকে বলছেন- শিক্ষা, খাদ্য ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তন জরুরি ছিল কিন্তু সরকার সেদিকে যায় নি। আপনার কী তাই মনে হয়?

সাইফুল হক: দেখুন, আপনি যে প্রশ্নটি করলেন সেটা মানুষের দাবি ছিল। কিন্তু যদি সেখানে পরিবর্তন আনত তাহলে সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে দুর্নীতিকে স্বীকৃতি দিচ্ছে বা দুর্নীতির দায়ভার গ্রহণ করছে এরকম একটি পরোক্ষ ইঙ্গিত জনগণের মধ্যে পাকাপোক্ত হয়ে যেত। আর সে বিষয়কে মাথায় নিয়ে যেসব মন্ত্রণালয়ের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ আছে সেখানে সরকার হাত দেয় নি। যেসব মন্ত্রণালয়ে পরিবর্তনের দাবি ছিল জনগণের মধ্যে সেখানে কোনো পরিবর্তন  করা হয় নি।

আর যেগুলো পরিবর্তন করা হয়েছে সেগুলো শেষ মুহূর্তে কিছুটা মুখ রক্ষা করা বা শেষ রক্ষা করার  জন্যই হয়েছে বলে আমার কাছে মনে হয়েছে। যেমন ধরুন হাওড়ের ক্ষেত্রে পানি সম্পদমন্ত্রী চূড়ান্তভাবে ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছেন।  তবে যেসব পরিবর্তন হয়েছে তাতে ভালো কিছু হবে এমনটি মনে করার কোনো কারণ নেই। আর বিমানের অব্যবস্থাপনা, দুর্নীতি, চুরির মাধ্যমে আমাদের রাষ্ট্রীয় এ সংস্থাটিকে পুরোপুরি ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে। সেখানে যিনি নতুন মন্ত্রী হলেন তিনি রাজনীতির মাঠের মতো একটি বক্তৃতা করে বললেন, রক্ত দিয়ে হলেও তিনি বিমানকে লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করবেন। এসব বক্তব্য খুবই হাস্যকর। এসব কথা বলার জন্যই শুধু বলা। এসব কথায় জনমনে খুব একটা প্রভাব ফেলবে না।

আমার মনে হয় মূলত প্রধান রাজনৈতিক ইস্যুগুলোকে কিছুটা আড়াল করার জন্যই এসব করা হচ্ছে। আর আগামী নির্বাচনের বছর খানেক আগে কিছুটা পরিবর্তন এনে মানুষের মনোযোগকে ভিন্ন জায়গায় প্রবাহিত করার একটা কৌশলমাত্র। আগামী কয়েক মাসে এ ধরনের নতুন কোনো চমক দেখলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না।

রেডিও তেহরান:  বর্তমান সরকার ১৪ দলীয় মহাজোটের সরকার এবং এমপির তো অভাব নেই। সে ক্ষেত্রে কেন একজন টেকনোক্র্যাট মন্ত্রীর প্রয়োজন হলো?

সাইফুল হক: আমার মনে হয় সরকার বহুদিন ধরে একজন বিশ্বস্ত লোককে চাচ্ছিলেন। আর টেকনোক্র্যাটমন্ত্রী হিসেবে যিনি এলেন তিনিই হয়তো সেই লোক। আর মন্ত্রী হওয়ার পর তিনি বললেন, আরে আগেই তার মন্ত্রী হওয়া উচিত ছিল। আর এই ধরনের মন্ত্রণালয়গুলোর সাথে প্রযুক্তিগত দিকের সম্পর্ক আছে। আগামী নির্বাচন থেকে শুরু করে আরো অনেকগুলো বিষয়ের সম্পর্ক রয়েছে। তথ্য ও সম্প্রচারের সঙ্গেও পরোক্ষ সম্পর্ক রয়েছে। তাছাড়া বাংলাদেশে যে পুরোপুরি ডিজিটাল পদ্ধতির কথা বলা হচ্ছে  সেটার জন্য চলতি বছর বা আগামী দিনগুলোতে বিশাল বিনিয়োগের একটা বিষয় রয়েছে। তাই সম্ভবত এসব বিষয়কে বিবেচনায় নিয়ে সরকার দলের বাইরেও হয়তো তার আস্থাভাজন কাউকে এসব জায়গায় চাচ্ছিলেন; যার স্বাভাবিকভাবে সমাজে একটি মর্যাদা রয়েছে। আর সে বিবেচনায় সরকার হয়তো টেকনোক্র্যাট একজনকে মন্ত্রিসভায় আনলেন।

রেডিও তেহরান:  বিএনপি নেতা নিতাই রায় চৌধুরী বলেছেন, সরকারের অভ্যন্তরীণ সংকট আড়াল করার জন্য মন্ত্রসিভায় পরিবর্তন আনা হয়েছে। এই বক্তব্য কতটা গ্রহণযোগ্য এবং সরকারের ভেতরের সেই সংকট আসলে কী?

সাইফুল হক: দেখুন আমাদের এখানে সরকারি দল বা বিরোধী দল আসলে এককেন্দ্রীক নির্ভর দল। আর এখানে ক্ষমতাকেন্দ্রীক কিছু টানাপড়েন ও সংকটও আছে কিন্তু এখানে এই মুহূর্তে বড় ধরনের কোনো সংকটের কারণে মন্ত্রিসভায় পরিবর্তন আনা বা নতুন মুখ আনা হয়েছে এমন যুক্তি আমি গ্রহণ করছি না। বরঞ্চ আগামী নির্বাচন কিভাবে হবে, নির্বাচনকালীন সরকার কী হবে, নির্বাচনকালীন একটা নিরপেক্ষ সরকার হবে কী না, মানুষের ভোটাধিকারের প্রশ্ন, মৌলিক গণতান্ত্রিক অধিকারের প্রশ্ন-এসব বিষয়কে কিছুটা আড়াল করার জন্য নন ইস্যুগুলোকে ইস্যু করা সরকারের একটি কৌশল। আগামী কয় মাসের মধ্যে এই ধরনের পরিবর্তন যদি আপনারা আবার দেখেন তাতেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না। ফলে এটি সরকারের ভেতরকার সংকটের কারণে করা হয়েছে বলে আমি মনে করি না।

#রেডিও তেহেরানকে দেওয়া সাক্ষাৎকারটি তুলে ধরা হয়েছে  

add.jpg
add.jpg

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ