{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

সময় না দিয়ে বস্তি ও মার্কেট উচ্ছেদ; বিপাকে বস্তিবাসী

প্রকাশঃ বুধবার, ০৩ জানুয়ারী ২০১৮    ০০:১০
নিজস্ব প্রতিবেদক:

রাজধানীরে গাবতলীতে বাংলাদেশ রোড ট্রান্সপোর্ট কর্পোরেশন(বিআরটিসি) বিশাল একটি বস্তি ও মার্কেট উচ্ছেদ করে প্রায় ১০০ শতাংশ জমি উদ্ধার করেছে।

বুধবার(২৬ ডিসেম্বর)সকাল ১০টায় তারা বস্তি উচ্ছেদ করে এবং বৃহস্পতিবার(২৭ ডিসেম্বর)সকাল ১০টায় তারা মার্কেটটি ভেঙ্গে ফেলে।

এদিকে খুব দ্রুত কার্যক্রম হাতে নেয়াতে বিপাকে পড়েছে সাধারণ বস্তিবাসী। তাদের অভিযোগ পর্যাপ্ত সময় না দিয়ে বিআরটিসি এ কার্যক্রম হাতে নিয়েছে। মো. আজাদ নামে এক বস্তিবাসী জানান, বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ মাত্র একদিন আগে তাদেরকে অনত্র আবাস সরিয়ে নিতে বলেন যা প্রায় অসম্ভব। তিনি আরো বলেন, এখানে প্রায় তিন শতাধিক ঘর ছিল এবং আমরা হাজারাধিক মানুষ এখানে বসবাস করতাম।

সেখানে ২৬ বছর ধরে বসবাসরত বৃদ্ধ নূর ইসলাম বলেন, ঢাকা মহানগর উত্তরের মেয়র আনিসুল হক ইতিপূর্বে কয়েকবার বস্তি ও মার্কেট অনত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছিলেন। কিন্তু বস্তিবাসী ও মার্কেট কর্তৃপক্ষ মেয়রের নির্দেশ মানেনি। বস্তির জমির মালিকরা ও স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিবর্গ তাদের আশ্বাস দিয়েছিল যে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ জমি দখল করতে পারবে না। কিন্তু গত মঙ্গলবার বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ হঠাৎ বস্তি অনত্র সরিয়ে নেয়ার জন্য নোটিশ দেয় । বুধবার সকাল ১০ টায় তারা বস্তি ভাঙতে শুরু করে। বস্তিবাসীরা তাদের বারবার অনুরোধ করেছিল বস্তিটি না ভাঙার জন্য। তারা আর কিছুদিন সময় চেয়েছিল। কিন্তু কর্তৃপক্ষ তাদের কোনো কথা না শুনে বস্তিটি ভাঙতে শুরু করে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন ব্যক্তি বলেন, বস্তির পাশেই একটি মসজিদ ছিল। বিআরটিসি কর্তৃপক্ষকে বারবার অনুরোধ করা হয়েছিল মসজিদটি না ভা্ঙ্গার জন্য। কিন্তু তারা মসজিদটিও ভেঙ্গে ফেলেছে। মসজিদের ভেতর থেকে কোরান শরীফ বের করার সময় পর্যন্ত দেয়া হয়নি।

এদিকে বস্তি ভেঙ্গে ফেলায় বস্তিবাসীরা রাস্তার পাশে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাচ্ছে। ঐ বস্তিতে বাসরত এক মহিলা বলেন, সরকার আমাদের মাথার উপরের ঠাই কেড়ে নিয়েছে। আমরা ভূমিহীন মানুষ। সরকার তো আমাদের থাকার জায়গা দিতেই পারল না উল্টো কেড়ে নিল এবং সাথে আমাদের কিছু সম্পদও বিনষ্ট করলো।

এ ব্যাপারে সিটি কর্পোরেশনের একজন কর্মকর্তা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, অনেকদিন ধরেই এ বিশাল জায়গা মুষ্টিমেয় কিছু প্রভাবশালী লোকের অধীনে ছিল। বস্তির জায়গা ও মার্কেটে দোকান ভাড়া দিয়ে তারা বিপুল পরিমাণ অর্থ উপার্জন করত। বস্তিবাসীদের পুনর্বাসনের ব্যাপারে তাকে প্রশ্ন করা হলে তিনি কোনো কিছু বলতে আগ্রহ প্রকাশ করেননি।

add.jpg
add.jpg

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ