{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

‘ফারিয়াকে মানসিক রোগী সাজানোর চেষ্টা’

প্রকাশঃ শুক্রবার, ২০ অক্টোবর ২০১৭    ২০:২৫
শামিম রহমান

রাজধানীর মিরপুরে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রী ফারিয়া ফেরদৌসী তামান্নাকে মানসিক রোগী সাজানোর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফারিয়ার পরিবার ও বন্ধুদের অভিযোগ, যে ছেলের অত্যাচার ও নির্যাতন সইতে না পেরে ফারিয়া আত্মহত্যা করেছে, সেই ছেলে ও তার পরিবার বিভিন্ন গণমাধ্যমে ফারিয়াকে মানসিক রোগী সাজিয়ে সংবাদও করাচ্ছে।

পরিবারের অভিযোগ, এ ঘটনায় আত্মহত্যার প্ররোচনায় হওয়া মামলার আসামি এখনও পুলিশ গ্রেপ্তার করতে পারেনি। ফলে বাইরে থেকে সে এ ঘটনাকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। 

জানতে চাইলে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কাফরুল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আল আমিন রাইজিং নিউজকে বলেন, ‘আসামি সালমান পলাতক। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।’ 

গত ১৫  অক্টোবর রোববার সকালে মিরপুর ১৩ নম্বর সেকশনের বাসা থেকে ফারিয়ার ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। ফারিয়া শান্ত মরিয়াম বিশ্ববিদ্যালয়ের ফ্যাশন ডিজাইনিংয়ের ছাত্রী ছিলেন।

ফারিয়ার পরিবার ও বন্ধুরা জানান, রাজধানীর গেণ্ডারিয়ার সালমান নামের এক যুবকের সঙ্গে ফারিয়ার সম্পর্ক ছিল। সালমান বাবার ব্যবসা দেখাশুনা করেন। সম্পর্কের এক পর্যায়ে সালমান অন্য আরেকজনের সঙ্গে সম্পর্কে জড়িয়ে যায়। এ নিয়ে ফারিয়ার সঙ্গে তার টানাপোড়ন শুরু হয়। এ নিয়ে কথা বলতে গেলে সালমান ফারিয়াকে প্রায় সময় রাস্তাঘাটে মারধর করতেন। সম্প্রতি সালমানের বাসায় যায় ফারিয়া। তখনও সালমান তার উপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালায়। পরে বাসায় ফিরে ফারিয়া আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনায় ফারিয়ার পরিবার সালমানের বিরুদ্ধে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করে।

ফারিয়ার ভাই ইত্তেহাদ আল মামুন রাইজিং নিউজকে বলেন, ‘সালমানের প্রতারণা ও অত্যাচার সইতে না পেরে আমার বোন আত্মহত্যা করেছে। এখন সে, তার পরিবার ও বন্ধু বান্ধব আমার বোনকে মানসিক রোগী সাজানোর চেষ্টা করছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমকে ভুল বুঝাচ্ছে। ফেসবুকে ছড়াচ্ছে। বলছে, মানসিক সমস্যার কারণে নাকি আমার বোন আত্মহত্যা করেছে।’

ইত্তেহাদ আরও বলেন, ‘আমার বোন অত্যন্ত মেধাবী ও প্রতিভাবান ছিল। ভালো গান করতো, ছবি আঁকতো। সে সুস্থ ও স্বাভাবিক ছিল। অথচ আমার বোনটাকে সালমান শেষ করে দিল। এখন মানসিক রোগী সাজানোর চেষ্টা করছে।’

ফারিয়ার পরিবার জানায়, সালমানের বাবা ধনী। অর্থের বিনিময়ে তারা অনেক কিছুই করতে পারে। তারা এ মামলা ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করছে। আসামি গ্রেপ্তারের বাইরে থাকায় এ সুযোগ পাচ্ছে।

ফারিয়াকে মারধর ও অত্যাচারের বিষয়ে জানতে চাইলে তাঁর কয়েকজন বান্ধবী রাইজিং নিউজের কাছে সত্যতা স্বীকার করেন। তাঁরা বলেন, তাঁদের সামনেও বেশ কয়েকবার সালমান ফারিয়াকে মারধর করেছিল। বাধা দিতে গেলে তাদের সঙ্গে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেছিলো সালমান।

সালমানের কয়েকজন বন্ধু ফারিয়াকে অপ্রকৃতস্থ বলে ফেসবুকে লেখা কিছু লেখা রাইজিং নিউজের কাছে আছে।

জানতে চাইলে এসআই আল আমিন বলেন, ’আমরা অতিদ্রুত সালমানকে গ্রেপ্তার করবো।’

এ বিষয়ে জানতে বৃহস্পতিবার (১৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সালমানের গেন্ডারিয়ার বাড়িতে যান এ প্রতিবেদক। সালমান পরিবারের সঙ্গে তিন তলার একটি ডুপ্লেক্স বাড়িতে থাকেন। সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে বাড়িতে ঢুকতে চাইলে দায়িত্বরত নিরাপত্তাকর্মী বাধা দেন। নিরাপত্তাকর্মী বলেন, ‘বাসায় কেউ নেই।’

এরপর সালমান, তাঁর বাবা ও মায়ের মুঠোফোনে কল করা হয়। কিন্তু সেগুলো বন্ধ পাওয়া যায়।

 

 

add.jpg
add.jpg

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ