প্রধানমন্ত্রীর ভাষনে ‘জাতি হতাশ হয়েছে’: ফখরুল

প্রকাশঃ শুক্রবার, ১২ জানুয়ারী ২০১৮    ২৩:১২
পুরাতন ছবি
পুরাতন ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক:

প্রধানমন্ত্রীর জাতির উদ্দেশ্যে দেয়া ভাষনে একাদশ নির্বাচন নিয়ে সমঝোতার কোনো ইঙ্গিত না থাকায় ‘জাতি হতাশ হয়েছে’ বলে দাবি করেছে বিএনপি। ফখরুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সংকট নিরসনে কোনো লক্ষন খুঁজে পাইনি। যার ফলে আমি বলছি যে, এ বিষয়টা একটা বড় হতাশার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।”

তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনের পর রাতে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর তাৎক্ষনিক প্রতিক্রিয়ায় এই মন্তব্য করেন ‘‘আমরা মনে করি, তার বক্তব্য কোনো সমস্যা সমাধান করতে পারেনি বরং দেশকে আরেক দফা সংকট দিকে নিয়ে যাচ্ছে নিসন্দেহে।” ‘জাতির হতাশা’র কারণ ব্যাখ্যা করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘সবাই ভাবছিলো দেশে যে একটা রাজণৈতিক সংকট ‍সৃষ্টি হয়েছিলো, দেশের মানুষ যে অস্থিতিশীল অবস্থার মধ্যে পড়েছে, আশংকা-অস্বস্থির মধ্যে তারা দিন কাটা্চ্ছে সেই সময়ে প্রধানমন্ত্রী তার ভাষনে একটি সুন্দর সমাপনীর কথা বলবেন। কিভাবে সামনের নির্বাচনকে অর্থবহ করা যায় এবং বিরাজমান যে সংকট সেই সংকট থেকে উত্তরণ ঘটানো যায় তার ব্যবস্থা তিনি করবেন।” ‘‘কিন্তু দূঃখজনকভাবে তার বক্তব্য কোনো সমস্যা সমাধান করতে পারেনি, এতে জাতি হতাশ হয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি যে, এদেশের মানুষ কখনো অন্যায়কে সহ্য করবে না। তারা সত্যিকার অর্থে একটা অর্থবহ সুষ্ঠু নির্বাচন দেখতে চায়।”

২০১৪ সালের নির্বাচন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রসঙ্গে টেনে তিনি বলেন, ‘‘ দুর্ভাগ্যজনকভাবে এই বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী যে বক্তব্য দিয়েছেন তার সঙ্গে সত্যতার খুব একটা কোনো সম্পর্ক নেই। ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতি জানে যে ভোট হয়েছিলো তাতে ৫% ভোট দিয়েছিলো। এটাতেই প্রমাণ হয়ে তারা আন্তরিক নন।” ‘‘ এদেশে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করবার জন্যে জনগন অপেক্ষা করছে যে, আগামী নির্বাচনে মধ্য দিয়ে সকল দলের অংশগ্রহনে একটা সুষ্ঠু নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচন এখানে সম্ভব হচ্ছে না। সেটা জনগনকে আশাহত করেছে।”

উন্নয়ন নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সাথে দ্বিমত পোষন করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘‘ তিনি (প্রধানমন্ত্রীর) বক্তব্যে উন্নয়নের বিষয়ে একটা ফিরিস্তি দিয়েছেন এবং সেই সঙ্গে বলেছেন যে, উন্নয়নের মহাসড়কে অগ্রযাত্রা।” ‘‘ আমরা সেটাকে মনে করি যে, দুর্নীতির মহাসড়কে তাদের অগ্রযাত্রা। উন্নয়নের যে কথা তারা বলছেন, সেখানে দুর্নীতি সবচেয়ে বড় ভুমিকা পালন করছে।”

নৈরাজ্য সৃষ্টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘‘ প্রধানমন্ত্রী কিছুটা হুমকির সুরে বলেছেন, কোনোরকম নৈরাজ্য সহ্য করা হবে না। আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই নৈরাজ্য বিরোধী দল সৃষ্টি করে না।” ‘‘ নৈরাজ্য তারাই সৃষ্টি করে সেই অবস্থা করে যাতে নির্বাচন ব্যাহত হয়। আজকে যখন গোটা জাতি অপেক্ষা করছে যে, সকলের অংশগ্রহনে একটি সুষ্ঠু নির্বাচন হোক- তখন তার এই বক্তব্য একে আরো ক্ষতিগ্রস্থ করেছে।”

বিদ্যমান সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচন হবে- প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় মির্জা ফখরুল বলেন, ‘‘ প্রধানমন্ত্রী সংবিধান মাফিক যে নির্বাচনের কথা বলছেন, এই সংবিধান অনুযায়ী যে নির্বাচনে কথা বলেছেন, সেই সংবিধান কাদের সংবিধান, কারা এই সংবিধান তৈরি করেছে, কাদেরকে নিয়ে এই সংবিধান তৈরি হয়েছে। এখানে জনগনের কোনো আশা-আকাংখার প্রতিফলন ঘটেনি।” ‘‘যে ব্যবস্থাটা জনগন মেনে নিয়েছিলো আগে একটি নির্বাচনকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে বিধান। সেই বিধানটা একতরফাভাবে বাতিল করে তারা একটা সংকট তৈরি করেছেন যা জাতির জন্যে অত্যন্ত ক্ষতিকর বলে আমরা মনে করি।”

মির্জা ফখরুল জানান, শনিবার বিকালে গুলশান কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাবে। জাতির উদ্দেশ্যে ভাষনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘‘সংবিধান অনুযায়ী ২০১৮ সালের শেষ দিকে একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। কিভাবে নির্বাচন হবে আমাদের সংবিধানে স্পষ্টভাবে বলা আছে। সংবিধান অনুযায়ী নির্বাচনের আগে নির্বাচনকালীন সরকার গঠিত হবে। সেই সরকার সর্বোতভাবে নির্বাচন কমিশনকে নির্বাচন পরিচালনায় সহায়তা দিয়ে যাবে।” ২০০৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নবম সংসদ নির্বাচনে তিন-চতুর্থাংশ আসনে জয় পায় আওয়ামী লীগ। ২০০৯ সালের ৬ জানুয়ারি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে গঠিত হয় মহাজোট সরকার। বিএনপির বর্জনের মধ্যে ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি হয় দশম সংসদ নির্বাচন। তাতে জয়ী হয়ে টানা দ্বিতীয় মেয়াদে সরকার গঠন করে আওয়ামী লীগ।

সাংবাদিকদের কাছে প্রতিক্রিয়া দেয়ার সময়ে চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি সাহাদাত হোসেন, নির্বাহী কমিটির সদস্য অপর্না রায় দাশ, চেয়ারপারসনের প্রেস উইংয়ের সদস্য শায়রুল কবির খান উপস্থিত ছিলেন।