{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

ঋতুচক্রেই আমি নারী

প্রকাশঃ বুধবার, ১৩ ডিসেম্বর ২০১৭    ২৩:০৯
ওয়াহিদা সুলতানা লাকি

সেদিন এক জায়গায় গিয়ে দেখা হলো এক বউদির সাথে। কিছুক্ষন গল্প করলাম।বউদিও আমার হাত ধরে রেখে গল্প করেই যাচ্ছেন। লক্ষ্য করলাম বউদির চোখ লাল লাল। আর জল ছল ছল করছে। নাকও টানছে ফাঁকে ফাঁকে।

প্রশ্ন করলাম, বউদি তোমার কি ঠান্ডা লেগেছে? সে বললো, আর বলো না। সিজন চেঞ্জ হচ্ছে তার উপর রোজ মাটিতে ঘুমানো বোঝোই তো। শুনে চোখ যেন আমার কপালে উঠে গেলো। অবাক হয়ে প্রশ্ন করলাম, মাটিতে কেনো ঘুমায়। বউদি জানালেন, তার এখন ঋতুস্রাব চলছে। তাই এই সাত দিন তিনি নাপাক মানে অপবিত্র। আর এই সাত দিন তার বরের পাশে বিছানায় শোয়া বারণ। পূঁজোর জিনিস ধরা বারণ। খাবার দাবারে বাছ আছে। অনেক সময় রান্নার কাজে যাওয়াতেও থাকে নিষেধাজ্ঞা।

বললাম, বউদি এই ঠান্ডার দিনে পাঁকা মাটির উপর সারাটা রাত শুয়ে থাকো তোমার কষ্ট হয় না? সে বললো, কী করবো ভাই! অভ্যেস হয়ে গেছে। নাপাক শরীরের ছোঁয়াতে বিছানার চাদর ধোয়া যায়। জাজিম, তোষক কি আর ধোয়া যাবে? তাই কী দরকার ওই ঝামেলার? মা, মাসিদেরও এমন ভাবেই চলে দেখেছি নাপাকের এই সময়টাতে।

জিজ্ঞাসা করলাম, তোমার তো গৃহপরিচারীকা নেই। হাড়ি, পাতিল, কাপড় ধোয়া এসব কে করে? বললেন তিনিই করেন।আমি বউদির আরও কিছু কথা শুনে পুরাই হতাশ হলাম। বুঝলাম, সেসব কাজের বেলায় আর নাপাকি যুতসই নয়। এ কেমন নিয়ম? হিন্দু নারীরা কি মানুষ নয়?

" If you think you are emancipated, you might consider the idea of tasting your own menstrual blood - if it makes you sick, you've got a long way to go, baby.”
― Germaine Greer

তুমি যদি নিজেকে মুক্ত মেয়ে মনে করো, তোমার নিজের মাসিকের রক্ত চেখে দেখো। তুমি যদি তাতে ঘৃণা বোধ করো তাহলে বলবো, মেয়ে! তোমার এখনও অনেক পথ বাকী!" ― Germaine Greer.

আর যাই হোক পাঠিকা আমি মাসিকের রক্ত চেখে দেখার মতো ধৃষ্টতা করি না, করতে বলিও না। এখানে লেখক এই বুঝিয়েছেন যে, মেয়েরদের মুক্তির প্রয়োজন।আর সে পথ মাড়াতে এসে এই ঋতু চক্রের দিনগুলিতেও তাদের প্রতি সমাজের অযাচিত রূপ আজও বহমান। এখনও গ্রাম বাংলার অনেক জায়গায় মেয়েদেরকে এই সময় মাছ, ডিম খেতে দেয়া হয় না। মাসিকের রক্তে আঁশটে গন্ধ হবে বলে। অথচ, তারা জানেনই না মাসিকের রক্ত ডিম্বানুরই প্রারম্ভ। এ সময় শরীরে কী হিউজ পরিমান আয়রন, ক্যালসিয়ামের ঘাটতি পড়ে।

একটা মেয়ের ঋতুস্রাব না হওয়া মানে সে সম্পূর্ন নারীত্বের স্বাদ পাবে না।মা হতে পারবে না।তাই,রেগুলার ঋতুস্রাব একটা মেয়ের জীবনে খুবই ইমপর্ট্যান্ট একটা বিষয়। এটা কি করে দোষের হয়, কেনো এইসব দিনগুলিতে মেয়েরা এতো অবহেলা অযত্নে দিন কাটায়?

আমি আমার পাশের মানুষটিকে বলি,এ সময় মেয়েদের কতো কষ্ট হয়,কী ব্যথা হয়।স্বাভাবিক চলতে ফিরতে ঝর ঝর করে রক্ত বের হতে হতে কতোটা দূর্বল লাগে।ঘরের কাজে এ সময় অবশ্যই পাশের মানুষটির সাহায্য করা উচিৎ। সে না বুঝলে, আমি তাকে তার মায়ের উদাহারণ টেনে দেই। কল্পনা করতে বলি, তার মায়েরও ঠিক এই কষ্টগুলো হতো।সেই সময় তার বাবা যদি তার মাকে যত্ন করতেন, কাজে সাহায্য করতেন মায়ের কতো আরাম হতো। সে বুঝতে পারে। আমি আমার ছেলেকেও ছোট্টবেলা থেকেই শিখিয়ে দিবো মেয়েদের এই সময়টায় তাকে সব কাজে সাহায্য করতে হয়।সে যেন বড় হয়ে তার স্ত্রীর কাছে সম্মানিত হয়।নিজের ঘরের নারীটির সাথে সাথে সব নারীদেরকে তার সাহায্যের হাত বাড়িয়ে ভালোবাসতে পারে।

-ওয়াহিদা সুলতানা লাকি
#ব্লগার_ইস্টিশন

ওয়াহিদা সুলতানা লাকি

ওয়াহিদা সুলতানা লাকি

লেখক: লেখক, ব্লগার ও এ্যাকটিভিস্ট

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ