{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

জ্বলে পুড়ে মরে ছাড়খার, তবু মাথা নোয়াবার নয়

প্রকাশঃ শনিবার, ২৫ নভেম্বর ২০১৭    ১১:০৭
মো. মাসুদ রানা

গত ২২ তারিখে হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীকে দিনাজপুর পরিবহন শ্রমিকরা মারধর করেছে। এতে অনেকেই আহত হয়েছে। দুজন শিক্ষার্থীর অবস্থা খুবই নাজুক। তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়েছে। হাবিপ্রবি ক্যাম্পাসের বাসকে তৃপ্তি পরিবহনের একটি বাস ধাক্কা দিয়েছিল। তখন ঐ বাসের হেল্পার ও ড্রাইভার এসে বিশ্ববিদ্যালয়ের বাসে উঠে গালাগালি করে। তখন যে ছেলেগুলো কথা বলেছিল, তাদেরকে তারা চিহ্নিত করে রাখে এবং দিনাজপুর বাস টার্মিনালে ১০-১৫ জন ছাত্রকে বেধম প্রহার করে তারা। এমনকি একজন ছাত্রকে চলন্ত বাসের নিচেও ফেলে দেওয়া হয়। ভাগ্যক্রমে ছেলেটি বেঁচে যায়। এই ঘটনা ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়লে উত্তপ্ত ছাত্র জনতা দুটি বাসে আগুন লাগিয়ে দেয়।। পরদিন শিক্ষার্থীরা দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে অবস্থান করে এবং দুপুর হলে দিনাজপুর জেলা প্রশাসন এসে আমাদেরকে সাথে নিয়ে পরিবহনশ্রমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের সাথে মিটিং করে। এতে ছাত্রদের দাবী মেনে নেওয়া হলে, তারা তাদের কার্যক্রম প্রত্যাহার করে নেয় এবং পরিবহনশ্রমিকরাও রাজী হয়, আমাদের বিরুদ্ধে পদক্ষেপ না নিতে। এই মিটিংয়ে পরিবহন শ্রমিকরা হাবিপ্রবির ভিসি স্যার ও প্রক্টর স্যারের পদত্যাগের দাবী করেছিল। পরিবহন শ্রমিকরা এখনো দিনাজপুর শহরে মাইকিং করে যানবাহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে। তারা শহরে হাবিপ্রবি কোন শিক্ষার্থীকে পেলে মারধর করবে।

২৩ তারিখ রাত্রে শুনতে পেলাম তারা ২৪ তারিখ থেকে পরিবহন ধর্মঘটে যাবে। এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরসহ প্রায় ১৫০ জন ছাত্রে বিরুদ্ধে মামলা করে। আমার প্রশ্ন হল, পরিবহন শ্রমিকদেরকে ছাত্রদের নামের তালিকা কে দিল? আর পরিবহন শ্রমিকরা কেন ভিসি স্যার ও প্রক্টর স্যারের পদত্যাগের জন্য হাস্যকর দাবী জানালো? তবে কি এসব নির্দেশ করেনা, আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারেই আমাদের শত্রু লুকায়িত রয়েছে? আর তাদের নেতৃত্বেই পুরো নাটকটি পরিচালনা করা হচ্ছে?

এই বিশ্ববিদ্যালয় যখন উন্নয়নের দিকে ধাবিত হচ্ছে তখন এক শ্রেনীর ক্ষমতালোভী মানুষ তা বারবার পেছন থেকে টেনে ধরছে। হাবিপ্রবি, আমি লজ্জিত! কারন তুমি তোমার পরিবারে এমন সদস্য রেখেছ যাদেরকে দেখলে ঘৃণায় মাথা হেট হয়ে যায়।

এই অবস্থায় দেশের কতিপয় হলুদ মিডিয়া টাকার বিনিময়ে মিথ্যা সংবাদ প্রকাশে ব্যস্ত হচ্ছে। তারা এমন ভাবে দেশবাসীর কাছে বিষয়টা তুলে ধরতেছে যেন সব দোষ হাবিপ্রবির ছাত্রদের। ধিক্কার জানাই এমন মিডিয়াগুলোর প্রতি।

হাবিপ্রবির শিক্ষার্থীর উপর যদি মিথ্যা মামলা তুলে নেওয়া না হয়, তবে দিনাজপুর-রংপুর মহাসড়কে অনির্দিষ্টকালের অবস্থান কর্মসূচি পালন করবে "ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ"। অনেক সহ্য করেছে এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। অন্যায়ের কাছে মাথানত কখনোই করবে না তারা। সুকান্ত ভট্টাচার্যের কবিতার নতুন ভার্সনের সাথে একটু সুর মিলিয়ে বলতে চাই সাবাস হাবিপ্রবি, এ বাংলাদেশ অবাক তাকিয়ে রয়, জ্বলে পুড়ে ছাড়খার তবু মাথা নোয়াবার নয়। রাজপথ কাপিয়ে, আমাদের অধিকার আদায় করে নিতে হবে। পুরো দেশকে জানিয়ে দিতে হবে, আমরা নির্দোষ। আমাদেরকে নিয়ে মিডিয়া কুৎসা রটনা করেছে। আমাদের এই ক্রান্তিকালে দেশের সব পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদেরকে পাশে থাকার জন্য অনুরোধ করছি।

আর স্বার্থান্বেষী মহলদের বলতে চাই, সত্যের পথে ফিরে আসুন, সাধারণ ছাত্ররা আপনাদের পেছনে থাকবে। আর যদি ফিরে না আসেন তবে হয়তবা অচিরেই নিজেদের অস্তিত্ব বিলিন হতে দেখবেন।

বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস আমাদের সবার। এর রক্ষণাবেক্ষণ ও এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার দায়িত্বটাও আমাদের। আর আমাদের মাঝে যদি ফাটল থাকে তবে ক্যাম্পাসের বড় কোন বিপদে ভেঙ্গে চুরমার হয়ে যাব। তাই নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থ ত্যাগ করে বৃহৎ স্বার্থ তথা ক্যাম্পাসের উন্নয়নের জন্য এগিয়ে আসুন সবাই-এটাই আমার প্রত্যাশা।

মো. মাসুদ রানা

মো. মাসুদ রানা

[email protected]

লেখক: শিক্ষার্থী, হাজী মোহাম্মদ দানেশ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ