{{theTime}} |   Fri 19 Jan 2018

দুম্বার মাংস; একাল না সেকাল?

প্রকাশঃ শনিবার, ৩০ ডিসেম্বর ২০১৭    ০০:৪১
আসিফ কাজল

সাল ১৯৯৭। কোন এক সরকারী অফিসে মাংসের গন্ধে শকুনের দল আবদ্ধ করে রেখেছে অফিস চত্বর কে! কাক এর ঝাকের ক্রমাগত  কা কা শব্দে যেন প্রকৃতির বাতাশও বিশাদ হয়ে উঠেছে!

৬ বছরের শীর্ণ দেহের মানব শিশুটি পলিথিন হাতে মায়ের আচল ধরে রেখেছে অফিসের গেট এর কোন ঘেষে, তখন মায়ের চাহনি গেটের ও’পাশে, আর সংকীর্ন হয়ে আসা আকাশের দিকে শকুনীর উড়ে চলা! তবে প্রত্যাশা প্যান্ট শার্ট পরিধান করা কর্তা দেখলেই মিলবে মুক্তি, ক টুকরো মাংসের পুষ্টিতে!

১৭ বছরের কিশোরী শাহীনা বাড়ীতে ছোট ভাই আর মায়ের প্রতিক্ষায়, গত বছর ও মায়ের সাথে গিয়েছিল ৪ টুকরা মাংসের আশায়, এবার তার মা তাকে বাড়িতে রেখে গিয়েছে, হইতো বড় হয়ে গেছে মেয়েটি আজ এই কারনে!! একান্ত মনে ভাবছে পাটা-নোড়ায়, লাল লংকা বাটতে বাটতে ভেবে চলা ।
এদিকে,
রফিকের ছেলের রোহানের(৮) মনে প্রশ্ন, আচ্ছা দুম্বার মাংস কেমন লাগে খেতে? সৌদি আরব কেন এই মাংস পাঠায়?
উত্তরে রফিক সাহেব বলেন, অনেক টা ছাগলের মত খেতে, সৌদিতে গরীব মানুষ নেই তো তাই কোরবারীর একটি অংশ মাংস আমাদের মত গরীব দেশে পাঠায়। তোমার মনে নেই রোহান গত কুরবানীতে ঢাকায় গরু কোরবানী করে মাংস গ্রামে পাঠাইলাম?

 

সাল ২০১৭। ২০  বছর আগের দিন হইতো রোহান দেখেনি,
কিন্তু রফিক সাহেব এর চোখে আজ পত্রিকার পাতায় এই শিরোনামে স্মৃতিতে কিছু উজ্জ্বল হলো, মনে কিছু প্রশ্ন-
২০২১ সালে যখন মধ্যম আয়ের দেশ, ২০১৭ শেষে গরীবের দুম্বা মেরে খাচ্ছি বেশ। এই আমার বাংলাদেশ?

[সম্প্রতি মাগুরা জেলায় মোহাম্মদপুর উপজেলায় দুম্বার মাংস বন্টনের অনিয়মের প্রেক্ষিতে]

আসিফ কাজল

আসিফ কাজল

[email protected]

লেখক: গণমাধ্যমকর্মী

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ