{{theTime}} |   Wed 17 Jan 2018

বঙ্গবন্ধু কেন আমার আদর্শ -সায়েম

প্রকাশঃ শনিবার, ০২ ডিসেম্বর ২০১৭    ১৬:১০
সাকিবুর রহমান সায়েম

সাধারন মানুষ ছিলেন না তিনি। তিনি ছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান, তাঁর থেকেই একটি আন্দোলন,সে আন্দোলন থেকেই একটি সংগ্রাম এবং সংগ্রাম থেকে স্বাধীন বাংলাদেশের স্থপতি। তিনি কালজয়ী ইতিহাস। হাজার বছরের শ্রেষ্ঠ বাঙালী শেখ মুজিব সামরিক শাসনকে পিছু হটিয়ে গনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা এবং বাংলা এবং বাঙালীর অধিকার আদায়ের সংগ্রামে তার অবদানের জন্য ভারতবর্ষীয় এবং বিশ্বজুড়ে সকল বাংলাভাষীর কাছে সমপূজনীয়।

শেখ মুজিব কি ছিলেন তা একটি উদাহরণ দেখলে কিছুটা আচঁ করা সম্ভব। ১৯৭১ সালে একটি মুক্তি শিবিরে একজন মুক্তিযোদ্ধাকে 'আপনি কেন যুদ্ধ করছেন ?' জিজ্ঞাসা করলে তিনি জবাব দেন, আমরা শেখ মুজিবের জন্য অস্ত্র ধরেছি। তিনি সেই বাঙালী যার জন্য অস্ত্র ধরে বীর সেনারা রেখে গেছেন বাংলাদেশ। সাংবাদিক শেরিল ডান শেখ মুজিবর রহমান কে 'পূর্নাঙ্গ বাঙ্গালী' বলে আখ্যায়িত করেছিলেন। তাঁর প্রজ্ঞায়, মেধায়, মননে ছিল বাংলা, বাঙ্গালী।

বাংলার ঐতিহ্য, ইতিহাস রক্ষায় প্রথম যিনি কথা বলেছিলেন তিনি শেখ মুজিবর রহমান। ১৯৫৫ সালের ২৫ আগস্ট করাচিতে পাকিস্তান গণপরিষদে বঙ্গবন্ধু বলেন,'স্যার আপনি দেখবেন ওরা পূর্ববাংলা নামের পরিবর্তে পূর্ব পাকিস্তান নাম রাখতে চায়। আমরা বহুবার দাবি জানিয়েছি যে, আপনারা এটাকে বাংলা নামে ডাকেন। বাংলা শব্দটার একটি নিজস্ব ইতিহাস আছে, আছে একটা ঐতিহ্য। আপনারা এই নাম আমাদের জনগণের সঙ্গে আলাপ-আলোচনা করে পরিবর্তন করতে পারেন। আপনারা যদি ঐ নাম পরিবর্তন করতে চান তাহলে আমাদের বাংলায় আবার যেতে হবে এবং সেখানকার জনগণের কাছে জিজ্ঞেস করতে হবে তারা নাম পরিবর্তনকে মেনে নেবে কিনা। এই ইউনিটের প্রস্তাবটা গঠনতন্ত্রে অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। আপনারা এই প্রশ্নটাকে এখনই কেন তুলতে চান? বাংলাভাষাকে, রাষ্ট্রভাষা হিসেবে গ্রহণ করার ব্যাপারে কি হবে?আমাদের স্বায়ত্তশাসন সম্বন্ধেই বা কি ভাবছেন? পূর্ববাংলার জনগণ অন্যান্য প্রশ্নগুলোর সমাধানের সাথে এই ইউনিটের প্রশ্নটাকে বিবেচনা করতে দাবী রাখে। তাই আমি আমার ঐ অংশের বন্ধুদের কাছে আবেদন জানাবো তারা যেন আমাদের জনগণের ‘রেফারেন্ডাম’ অথবা গণভোটের মাধ্যমে দেয়া রায়কে মেনে নেন।

দেশের নাম টা পর্যন্ত এই নায়কেরই দেয়া। ৬৬’ সালের ৫ই ডিসেম্বর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দীর মৃত্যুবার্ষিকীতে তিনি বলেছিলেন,"এক সময়ে এদেশের বুক হইতে, মানচিত্রের পৃষ্ঠা হইতে বাংলা কথাটির সর্বশেষ চিহ্নটুকুও চিরতরে মুছিয়া ফেলার চেষ্টা করা হইয়াছে। জনগণের পক্ষ হইতে আমি ঘোষণা করিতেছি — আজ হইতে পাকিস্তানের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশটির নাম ‘পূর্ব পাকিস্তানের পরিবর্তে শুধুমাত্র বাংলাদেশ।”

বঙ্গবন্ধুই আমার আদর্শ- বঙ্গবন্ধু সেই মহান ব্যাক্তিত্ব যিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থাকা অবস্থায় কথা বলেছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের পক্ষে। ১৯৪৯ সালে চতুর্থ শ্রেণীর কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির দাবিতে ডাকা ধর্মঘটে নেতৃত্বদানের অভিযোগে তাকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বহিষ্কার করা হয়েছিলো। মুচলেকা দিয়ে ছাত্রত্ব ফেরত পাওয়ার অফার পেয়েও তিনি তার নীতি থেকে একচুলও সরে আসেন নি। এটাই হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

নারী অধিকার বলেন? নারীর অধিকার নিয়ে তিনিই প্রথম ভেবেছিলেন। এক আদেশনামায় তিনি নির্দেশ করছিলেন "পাবলিক সেক্টরে যে সকল নিয়োগ হবে তাতে ১০ শতাংশ মেয়েদের নিয়োগ থাকবে।"এটিই ছিলো বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, যিনি নারী অধিকারের কথা সবার আগে মাথায় রাখেন।

১৯৫০ সালে তিনি ফরিদপুর জেলে। সমাজকর্মী চন্দ্র ঘোষের সাথে তিনি সেসময় বলেছিলেন, "আমি মানুষকে মানুষ হিসেবেই দেখি। রাজনীতিতে আমার কাছে মুসলমান, হিন্দু ও খ্রিস্টান বলে কিছু নাই। সকলেই মানুষ।" এটাই বঙ্গবন্ধুর আদর্শ।

বঙ্গবন্ধু এক ভাষণে বলেছিলেন,"যার মনের মধ্যে সাম্প্রদায়িকতা, সে হলো বন্য জীবের সমতুল্য। যারা বাংলার গ্রামে-গ্রামে সাম্প্রদায়িকতা ছড়াচ্ছে, তোমরা তাদের বিরুদ্ধে দুর্বারআন্দোলন শুরু করো। ধর্মনিরপেক্ষতার পতাকা সমুন্নত রাখো।” তিনি ছিলেন ধর্মভীরু একজন মানুষ। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতার পরপরই রাশিয়াতে অনুষ্ঠিত তাবলীগে বাংলাদেশ থেকে জামাতপ্রেরণের ব্যবস্থা করেছিলেন। ঢাকার কাকরাইলের মসজিদ ও বিশ্ব এজতেমার জন্য টঙ্গীতে সরকারি জায়গা বরাদ্দ দিয়েছিলেন।বাংলাদেশ থেকে পবিত্র হজ্জ পালনের জন্যে সরকারি অনুদানের ব্যবস্থা বঙ্গবন্ধুই করেছিলেন। বাংলাদেশ ইসলামিক ফাউন্ডেশনের প্রতিষ্ঠা করেছেন তিনি।

বিদেশ থেকে মদ আমদানি ও মদ তৈরি নিষিদ্ধ করেছিলেন। সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঘোড়দৌড় প্রতিযোগিতার নামে প্রকাশ্যে জুয়া খেলা নিষিদ্ধ ষোষণা করেছিলেন। দেশের অর্থ খরচ হবে ভেবে যে ব্যক্তিত্ব বিদেশে যেয়ে নিজের চিকিৎসা করায় না সে ব্যক্তিত্বই প্রত্যেক প্রজন্মান্তরে প্রজন্মের আদর্শ হওয়া উচিত।

যিনি এ দেশ সৃষ্টির কারিগর তিনি আমাদের মাঝে নেই, আমাদের জন্য রেখে গেছেন এক সমুদ্র শোক, রেখে গেছেন একটি কালো দিন ১৫ আগষ্ট। এই শোক গুলোই, এই দিন টাই পেয়েছি আমাদের যুগের মুজিব প্রেমীরা। এই শোক কে ধারণ করেই ভালোবাসতে হয় আমাদের যুগের মুজিব প্রেমীদের। এই মহান নেতার জীবনকে কোন কিছুতে একত্রীকরন করা যায় না। কারন মুজিব তাঁর সৃষ্টির চেয়েও মহান। তিনি আমাদের বর্তমান এবং ভবিষ্যতের অনুপ্রেরনা। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ এবং উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করা বাঙালীজাতির মহান কর্তব্য। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ, উত্তরাধিকার সংরক্ষণ করা মানে শেখ হাসিনার হাতকে শক্তিশালী করা। শেখ হাসিনা ভালো থাকলে ভালো থাকবে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা। ভালো থাকুক শেখ হাসিনা,ভালো থাকুক বাংলাদেশ। জয় বাংলা,জয় বঙ্গবন্ধু

সাকিবুর রহমান সায়েম

সাকিবুর রহমান সায়েম

লেখক: আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সহ-সম্পাদক,শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হক হল ছাত্রলীগ।

সম্পাদক

কাজী এম আনিছুল ইসলাম

ভারপ্রাপ্ত প্রকাশক

মোঃ আব্দুল হামিদ

আমাদের সাথে থাকুন
সদ্য সংবাদ